নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক নীতিমালা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেরই প্রতিচ্ছবি। এমন অভিমত জানিয়ে সাংবাদিক নেতারা বলছেন, এই নীতিমালা কার্যকর হলে, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। এতে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা বাড়ারও আশঙ্কা করছেন তারা।
তাই নীতিমালা প্রয়োগের আগে আবারো গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
নির্বাচনের দিন গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বটা একটু বেশিই থাকে। কারণ, নির্বাচনের দিনের নানা খবর দিনভর মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বটা নিষ্ঠার সাথে পালন করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। আর বরাবরই প্রশাসন থেকে শুরু করে সব মহলের নজরদারিতেই থাকেন তারা।
কিন্তু এবার সেই খবরা-খবর কতটুকু, কীভাবে দিতে পারবেন সাংবাদিকরা সেই নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এতে বলা হয়েছে-
১. একই সঙ্গে দুইয়ের বেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিক একই ভোটকক্ষে ঢুকতে করতে পারবেন না এবং ১০ মিনিটের বেশি ভোটকক্ষে থাকতে করতে পারবেন না।
২. ভোটকক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তা, নির্বাচনী এজেন্ট বা ভোটারদের সাক্ষাৎকার নিতে পারবেন না।
৩. ভোটকক্ষের ভেতর থেকে কোনোভাবেই সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না।
৪. ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে সরাসরি সম্প্রচার করতে হলে ভোটকক্ষ হতে নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে তা করতে হবে, কোনক্রমেই ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে বাধা দেয়া যাবে না।
৫. সাংবাদিকরা ভোটগণনা কক্ষে ভোট গণনা দেখতে পারবেন, ছবি নিতে পারবেন তবে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না।
৬. ভোটকক্ষ থেকে ফেইসবুকসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করা যাবে না।
এ নীতিমালা জাতীয় সংসদসহ সব নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য হবে। সাংবাদিক নেতারা বলছেন, এই নীতিমালা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতিচ্ছবিই হিসেবেই দেখছেন তারা।
তারা বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো সাংবাদিকদের জন্য নির্বাচন অবাধে কাভার করার সুযোগ তৈরি করে দেয়া, কিন্তু তা না করে কমিশন চেষ্টা করছে কিভাবে তাদের দূরে রাখা যায়।
সেই সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর এই বিধিনিধেষ প্রয়োগের আগে নানা অসঙ্গতি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার তাগিদও দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
এনিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, নীতিমালা নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই। এ নিয়ে আসা মতামত বা সমালোচনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে ‘সময়মত’ তারা সিদ্ধান্ত নিবেন।
একাত্তর/এআর
