পাঁচ সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে তাদের জন্য একটা নিরীক্ষা হতে পারতো বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। তারা বলেন, বর্জন করে নয় বরং ভোটে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনও চালিয়ে যেতে পারত বিএনপি।
শনিবার সকালে, রাজধানীর বনানীর ঢাকা গ্যালারিতে এডিটরস গিল্ড আয়োজিত ‘কেমন হবে সিটি নির্বাচন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বিশিষ্টজনেরা আরও বলেন, দেশে যে কোনও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তা নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের ওপর। গোলটেবিল বৈঠকের সঞ্চালনা করেন এডিটরস গিল্ডের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রেজোয়ানুল হক।
বৈঠকে সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাইদ খান বলেন, ভালো নির্বাচন বলতে যা বোঝায় অংশগ্রহণমূলক এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এটা সম্ভব না, কেননা ভেতরে অনেক সমস্যা রয়েছে। জনগণের মনে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে যে ভোট দিয়ে কী হবে, যা হবার হবে।
সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, সরকারি দল জাতীয় নির্বাচনের আগে একটা উইন্ডো ডিসপ্লে। সুতরাং বড় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনে যেমন সরকারি দলের অবস্থান আছে, তেমনই বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিরও একটা অবস্থান থাকার কথা। তারা নির্বাচন বর্জন করে কিন্তু কিছু অর্জন করছে না। আমার মনে হয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও এই বিরোধিতা করা যেত।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ বলেন, বিরোধীদল যদি জয়লাভ করে তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, বিরোধীদল জয়লাভ না করলে সুষ্ঠু হয় নাই, এই ধরনের একটা মানসিকতা আমাদের মাঝে তৈরি হয়েছে। এই মাইন্ড সেট থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। কেননা সরকার ক্ষমতা থাকা অবস্থায় যে কোনও পার্টি জয়যুক্ত হতে পারে, যদি তার সমর্থন থাকে, প্রার্থী যদি ভালো হয়।
প্রশাসন নির্বাচনে কোনও ভূমিকা পালন করে না, জানিয়ে সাবেক সচিব জিল্লার রহমান বলেন, প্রশাসনে যারা চাকরি করেন তারা চাকরিজীবী। সিদ্ধান্তটা নেয় নির্বাচন কমিশন ও যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই সরকার। যখন নির্বাচন চলে তখন এই নির্বাচনের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট তারা সবাই নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে চলে যায়।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের দেশে এখনও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল গড়ে উঠতে পারেনি। তাই সরকারি দল বা বিরোধীদল উভয় থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। এই রাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।
মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মী খুশী কবিরের মতে, শুধু সিটি নির্বাচন নয়, সব নির্বাচনই মানুষ যেভাবে দেখতে চায় সেভাবে হবে কিনা সেটা একটা বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন। এখানে নির্বাচন চলাকালীন অল্প সময়ের জন্য প্রশাসনসহ অন্যান্য যারা আছে সবাই নির্বাচন কমিশনের অধীনে যায়। কিন্তু তাদের প্রমোশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ভর করে সরকারের ওপর। এক্ষেত্রে নির্বাচনে কতটা নিরপেক্ষ দ্বায়িত্ব পালন করবে এটাও ভেবে দেখা দরকার।
নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, নির্বাচনের প্রতি জনগণের আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা কমছে। এটা রাজনৈতিক দলগুলো টের পেয়েছে। আসেন ওই আলোচনাটা করি কীভাবে জনসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে জননির্বাচনকে ফেরত আনবো। এটা ছাড়া মুক্তি নাই। আপনি যতই উন্নয়নের জয়গান গান, আপনি সকলকে নিয়ে রেল গাড়িতে উঠতে পারবেন না। আর সকলকে নিয়ে যদি যাওয়া না যায় তাহলে এই উন্নয়ন টেকসই হবে না।
একাত্তর/আরবিএস
