ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করতে ড্রোন নামিয়ে জরিপ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। এই জরিপের মাধ্যমে প্রতিটি ভবনের ছাদে পানি জমা আছে কিনা তা খুঁজে দেখা হবে।
বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে ড্রোন দিয়ে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শনাক্তে ভালো ফল পাওয়ায় এবার পুরো সিটিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
সেলিম রেজা বলেন, ড্রোনের সাহায্যে বহুতল ভবনের ছাদে বা কোথাও জমা পানি আছে কিনা তা সহজেই চিহ্নিত করা যায়। মোট ৫ টি ড্রোনের মাধ্যমে উত্তরের প্রতিটি ভবনের ছাদের ছবি সংগ্রহ করা হবে। কোথাও জমা পানি দেখা গেলে পরবর্তীতে সেখানে এডিসের লার্ভা আছে কিনা তা খুঁজে দেখা হবে।
গেলো বর্ষায় পরীক্ষামূলকভাবে ড্রোন ব্যবহার করেছিল উত্তর সিটি। যার মাধ্যমে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ভবনের ছবি তোলা হয়। পরে ২৫০টি স্পটে এডিসের লার্ভা খুঁজে পান মশক নিধন কর্মীরা।

সেলিম রেজা বলেন, এসব ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে দুই কিলোমিটার দুরে যেতে সক্ষম। ছাদ বাগান রয়েছে এমন ভবনগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। ছবিতে যে সব বাড়ির ছাদবাগানে জমে থাকা পানির অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা গিয়ে লার্ভা শনাক্ত করে নিধন করছেন।
ড্রোন দিয়ে জরিপের কাজ আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে উত্তর সিটির। এরপর আগামী ৮ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত চলবে মশা নিধনের ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’।
চলতি বছরে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বেশির এলাকা ডেঙ্গুর ‘উচ্চ ঝুঁকি’তে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম বলেছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছেন রাজধানীর সব বাসিন্দাই।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে ঢাকার সবাই: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
ঢাকার দুই সিটির ৯৮টি ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক-মৌসুম জরিপের ফলাফলে দেখো গেছে অধিকাংশ ওয়ার্ডই রয়েছে ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে। ঢাকার উত্তরে ৫৪টি এবং দক্ষিণে ৭৫টিসহ মোট ওয়ার্ড রয়েছে ১১৯টি। এর মধ্যে ৫৭টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ সিটির ২৮টি এবং উত্তর সিটির ২৭টি ওয়ার্ড রয়েছে।
এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব ২০ শতাংশের বেশি হওয়া মানেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। জরিপে ঢাকা মহানগরীতে এডিসের লার্ভার ঘনত্ব পাওয়া গেছে তার চেয়েও বেশি। দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় এডিসের লার্ভার গড় ঘনত্ব ২৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বহুতল ভবনে এই হার আরও বেশি।
একাত্তর/আরবি
