উদ্বেগজনক ডেঙ্গু পরিস্থিতিতেও এই শহরের কিছু মানুষের যেনো টনক নড়ছে না। উদাসীনতায় অনেকের বাসাবাড়ি কিংবা স্থাপনায় জন্মাচ্ছে মারাত্মক ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা।
ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের অভিযানে অনেক স্থাপনাতেই মিলছে এডিসের লার্ভা। জরিমানাও হচ্ছে। কিন্ত কাঙ্ক্ষিত সচেতনতার দেখা যাচ্ছে না। ফল পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেভাবে আশঙ্কাজনক হারে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে, তাতে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে ভাইরাসজনিক এই রোগ। বড় চাপে পড়বে স্বাস্থ্যখাত।
সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের দৈনিক সংখ্যাটা গেলো তিন দিন ধরেই আটশ’র ঘরে। যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ঢাকার বাসিন্দা। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও।
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা কোথায়, কিভাবে জন্মায় তা মোটামুটি সবারই জানা। কিন্তু, তারপরও অনেকেই উদাসীন। তবে এরিমধ্যেই বদলে গেছে এডিসের চরিত্র।
ঢাকা দক্ষিণের ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিশেষ অভিযানে মায়াকাননের একটি বাড়িতে ওয়াসার মিটারে জমে থাকা পানিতেও পাওয়া গেছে এডিসের লার্ভা।
শুরুতে বাড়ির মালিক লার্ভা থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি কিছুতেই মানতে পারছিলেন না পানির মিটারের ভেতরে কিভাবে লার্ভার জন্ম হতে পারে।
কিন্তু তাঁকে হাতেহাতে দেখিয়ে দেয়ার পর তিনি ভুল স্বীকার করেন। তিনি জানান, মিটারের মধ্যে এডিস ডিম পারতে পারে এটা তিনি চিন্তা করে দেখেননি।
এভাবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের অভিযানে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থাপনায় মিলছে এডিসের লার্ভা। জরিমানাও করা হচ্ছে। কিন্তু, কাঙ্খিত সচেতনতার দেখা মিলছে না।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা বলছে, বাসা-বাড়ির চারপাশ পরিস্কার রাখা এবং পানি জমতে পারে এমন জায়গাগুলো সম্পর্কে নগরবাসীর মধ্যে তেমন কোন সচেতনতা নেই।
আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অসচেতনতায় আগষ্ট-সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ডেঙ্গু। কারণ একটি এডিস মশা জন্ম দিতে পারে হাজার হাজার লার্ভা।
দু’একটি বাদে দেশের প্রায় সব জেলাতেই ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। তাই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুরো দেশকে এখনই সচতেন হবার পরামর্শ দিলেন বিশষেজ্ঞরা।
একাত্তর/এআর
