চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা জারি হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানালেন উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম।
এই অবস্থায় নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করেছে উত্তর সিটি কর্পোরেশন।
বুধবার রাজধানীর বনশ্রীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে একথা জানান মেয়র আতিক।
প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় শিকার শিশুরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য বলছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে ২৫ শতাংশই শিশু-কিশোর।
তাই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শিশু-কিশোরদের সচেতনতা জরুরি। ঘরে-বাইরে এডিস মশার প্রজনন কিভাবে রুখতে হয় শিশুরা সেটা জানলে পরিবারের বড়দেরও তারা সতর্ক করতে পারবে।
সেই ভাবনা থেকেই স্কুলে স্কুলে উত্তরের মেয়রের এই কর্মসূচী। যার শুরুটা বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল থেকে। অ্যাসেম্বলির মাঠে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা মেয়রের মুখে শুনলো, কীভাবে এডিস মশা দমন করতে হয়।
এরপর মেয়র যান রামপুরা একরামুন্নেসা স্কুলে। স্কুলের মাঠে দাড়িয়েই বাসাবাড়ির কোথাও জমা পানি না রাখার শপথ নেয় শিক্ষার্থীরা।
মেয়র বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে নগর প্রশাসন। মশা নিধন অভিযানের পাশাপাশি প্রতিটি অঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। জরিমানা করা হচ্ছে।
তবে, কাঙ্ক্ষিত ফল এখনও মিলছেনা জানিয়ে তিনি বলেন, এই অবস্থায় স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজন আছে কিনা; স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেই সিদ্ধান্ত নেবে।
পরে সাংবাদিকদের মেয়র বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশন একা নয়, বরং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবার সচেতনতা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: জাতীয়করণের দাবিতে নবম দিনেও রাজপথে শিক্ষকরা
বুধবার ডিএনসিসির চলমান মাসব্যাপী বিশেষ মশক নিধন অভিযানের ১১তম দিনে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ছয়টি মামলায় মোট তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানের পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে উত্তর সিটি কর্পোরেশন। উত্তরের ৪৬টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ নিতে পারেন নগরবাসী।
একাত্তর/এসজে
