বিএনপি আন্দোলনের নামে আবারো সড়কে আগুন-সন্ত্রাস শুরু করেছে এমন অভিযোগ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেছেন, এই দলটির আন্দোলনের কথা শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বাস মালিকরা।
এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে উল্লেখ করে যারা আন্দোলনের নামে গাড়িতে আগুন দিচ্ছে তাদের কাছে ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানান তিনি। যারা বাসে আগুন দিচ্ছে তাদের কাছ থেকেই যেন ক্ষতিপূরণ সরকার ব্যবস্থা করা হয়, সে দাবিও জানান তিনি।
বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচিতে আবারো বাসে আগুন। শনিবার রাজধানীর প্রবেশ মুখে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল এলাকায় বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। আর সারাদেশে মোট সাতটি বাসে আগুন দেয় আগুন-সন্ত্রাসীরা।
রোববার সাংবাদিকদের বাস মালিকরা বলেন, এসব ঘটনা আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১৪-১৫ সালের কথা। সে সময় ৯২ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়। ভাংচুর ও আগুন দেয়া হয় প্রায় পাঁচ হাজার গাড়িতে। তারা বলেন, বিএনপির আন্দোলনের কথা শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মালিকরা।
বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, এমনও মালিকের গাড়ি পুড়িয়েছে যে, মালিক ওই গাড়ির উপর নির্ভরশীল। তার সংসার চলে এই গাড়ির উপার্জন দিয়ে। কিন্তু এসব গাড়িতে বীমা ব্যবস্থার যে দাবি সেটা থাকে না। চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয় মালিকরা। তাই এই ক্ষতি যেনো কাটিয়ে উঠতে পারে সে জন্য যারা বাসে আগুন দিচ্ছে তাদের কাছ থেকেই যেন ক্ষতিপূরণ সরকার ব্যবস্থা করে দেয়।
তিনি বলেন, এর আগে আমাদের প্রায় ২০ কোটি টাকার পরিবহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যা সরকার ক্ষতিপূরণবাবদ দিয়েছেন। কিন্তু গাড়ি পোড়াবে একটা পক্ষ আর ক্ষতিপূরণ দিবে অন্য পক্ষ তা তো হতে পারে না। সুতরাং এখন থেকে যারা গাড়ি পোড়াবে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।
বাস মালিক সমিতির মহাসচিব বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের অর্থ জ্বালাও পোড়াও না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতেই পারে, সরকারের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের পক্ষ থেকেও বিরুপ কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। কিন্তু আন্দোলনের নামে যেন পরিবহন খাতকে ক্ষতিগ্রস্থ করা না হয়।
আন্দোলনের প্রথম টার্গেট পরিবহন কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা একটা ভীতি সৃষ্টি করার জন্য, আতংক সৃষ্টি করার জন্য। তারা পুনরায় আন্দোলনের নামে আবারও রাস্তায় নেমে ১৪-১৫ সালের মতো জ্বালাও পোড়াও শুরু করেছে। এটা কোনো ভাবে কাম্য নয়। দেশের ভালো চাইলে, দেশের উন্নতি চাইলে এধরণের জ্বালাও পোড়াও করে কোনো দিনও দাবি আদায় সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, মালিকরা বিএনপির সভাসমাবেশ শুনলেই আতংকিত হয়ে যান। তাদের সভাসমাবেশের কথা শুনলে বাস মালিকরা ভবিষ্যতে রাস্তায় গাড়ি নামাতে চাইবে না। কারণ ভয় পাবে, ওরা তো প্রোগ্রাম দিয়ে রাস্তায় গাড়ি পোড়ানো শুরু করেছে আবার। তাদের অতীতের যে ভয়কংর ইতিহাস, সেটা তো এখনও আমাদের মনে পড়ে।
আরও পড়ুন: অক্টোবরের আগে সংসদ নির্বাচনের তফসিল সম্ভব নয়: সিইসি
মালিকরা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা না পেলে গাড়ি চালাবে না এমন হুশিয়ারী দিয়ে বাম মালিকদের এই নেতা বলেন, তারা (বিএনপি) যেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে। আর যদি শান্তিপূর্ণ না করে সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয় তাহলে তো যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। তাই আমাদের আহ্বান থাকবে গাড়ি না পুড়িয়ে দেশের সম্পদ নষ্ট না করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করুক।
তিনি বলেন, গাড়ি না চালিয়ে দেশের জনগণকে আমরা কষ্ট দিতে চাই না। আমরা তাদের শাস্তি দাবি করি। যারা এ ধরণের ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত থাকে তাদেরকে যেন আইনের আওতায় আনা হয় এবং তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা করা হোক।
