তিন বছরেও মৌলভীবাজার মনু নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। এই নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার বাসিন্দারা। ভোটাররা বলছেন, এই প্রকল্পের মতো, অন্য প্রকল্পের দুর্ভোগ এই আসনের নির্বাচনের ফল বদলে দিতে পারে।
মনু নদী একটি ভারত-বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত নদী। এটি প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সখানটাং পর্বতের কাহোসিব চুরার নিচে উৎপত্তি লাভ করে ও উত্তর-পূর্ব দিকে কুমারঘাট ও কৈলাসহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
বাংলাদেশে এটি মৌলভীবাজার জেলার মধ্য দিয়ে সিলেট সমভূমিতে চলে গেছে। পরে ধোলাই নদী এটির সঙ্গে মিলিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে এবং কুশিয়ারা মনুমুখে গিয়ে মিশেছে। এটি ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা ত্রিপুরার দীর্ঘতম নদী।
উজানে থেকে নেমে আসা পলি বালিতে ভারতে ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি খরস্রোতা নদী মনু তলদেশ অনেক আগেই ভরাট হয়ে পড়েছে। দেশের সীমানায় প্রবাহিত ৭২ কিলোমিটার মনু নদী স্বাধীনতার দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেও একবার খনন করা যায়নি।
গেলো কয়েক বছর ধরে মনু নদীর পারের মানুষদের দুভোর্গ কোনোভাবে যেন কাটছে না। প্রতি বর্ষায় ভারতের পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর পানি বেড়ে ডুবিয়ে দিয়ে যায় ১০ লাখ মানুষের ঘরবাড়ি। প্রতি বর্ষায় নদীর পানি ফুলেফেঁপে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলা শহরসহ মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া- এ তিন উপজেলায় ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি হয়।
তখন শহর গ্রামগঞ্জ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে বাড়িঘর ও কোটি কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করা এই মানুষগুলোর দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে হাজার কোটি টাকার বাঁধ রক্ষা প্রকল্প বাস্তাবায়নের নির্দেশ দেন। কিন্তু বাঁধ তৈরির ধীরগতি দেখে নদী ভাঙনের মানুষগুলো ভরসা রাখতে পারছেন না।
এদিকে আর কয়েক মাস পর তোড়জোড় শুরু হবে দ্বাদশ সংসদ নিবাচনের। মনু নদীর ভাঙন শুধু নদী পারের মানুষদেরই নয়, এনিয়ে ভোটের দৌড়ে থাকা সম্ভব্য প্রার্থীদের মধ্যে চলছে আলোচনা। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেন এই আসনের মানুষের প্রত্যাশা শুধু প্রতিশ্রুতিই নয়, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।
মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে কিংবা সাংগঠনিক গুণে ভোটার ও কর্মীদের কাছে পরিচিত মুখ প্রয়াত তিন নেতা। তারা হলেন- বিএনপির এম সাইফুর রহমান, আওয়ামী লীগের সৈয়দ মহসীন আলী এবং আজিজুর রহমান। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মাঠে নেমেছেন তাদের পরিবারের সদস্য ও অনুসারীরা। প্রচারে কাজে লাগাচ্ছেন প্রয়াত নেতাদের সুনামকে।
এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনীতিসচেতন ভোটারদের মধ্যেও আছে নানা আলোচনা। দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকলেও কিছু জায়গায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগে ‘গ্রুপিং’ থাকায় মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাও বেশি। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, দলীয় কাজ স্থবির হয়ে আছে। জেলার উন্নয়নমূলক কাজের অফিস ঘিরে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট।
একাত্তর/এসি
