নীলফামারী-৪ সংসদীয় আসনটি সৈয়দপুর এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ১৫ নাম্বার আসন। এই আসনে জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থান থাকলেও দলীয় কোন্দল সাংগঠনিক অবস্থানকে দুর্বল করে ফেলেছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেও এই আসনে নিজেদের অবস্থান এখনো শক্ত করতে পারেনি। তবে আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে মাঠ গরম করছেন তারা। ভোটের ইতিহাস বলছে, এই আসনে বিএনপির ফলাফল কখনোই ভালো ছিলো না।
উত্তরের জনপদ নীলফামারী-৪ আসনটিতে জাতীয় পার্টি (জাপা), আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে। কিন্তু এর বাইরে আরেকটি ভোটব্যাংক আছে, যেটি তিন দলের ভোটের হিসাবে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতি নির্বাচনেই এই ভোটব্যাংক বড় ভূমিকা রাখে।
সৈয়দপুরের প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটারই পাকিস্তানের আটকে পড়া বিহারী জনগোষ্ঠী। ফলে জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে তাদের ভূমিকা থাকে। তারা কোন দিকে ঝুঁকছেন, সেটিও এই আসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বরাবরই আশাহত হবার আক্ষেপ আছে তাদের মধ্যে।
নীলফামারী-৪ আসনের চার লাখ ভোটারের মধ্যে ২ লাখ সৈয়দপুর আর ২ লাখ কিশোরগঞ্জে। এই আসনের সংসদ সদস্য কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা এবং এরশাদের ভাগ্নে আহসান আদিলুর রহমান। উপজেলা জাতীয় পার্টির কোন্দল এখানে স্পষ্ট। এরিমধ্যে আহসান আদিলুরকে দল থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। তবে, উপজেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক ঘোষণা দিয়েছেন দল মনোনয়ন না দিলেও তিনি নির্বাচন করবেন।
এ আসনে এখনো আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী সামনে আসেনি। জোটের বিবেচনায় নয় বরং দলকে শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগের টিকেট চান উপজেলা চেয়ারম্যান। জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় অবাঙালি ভোটাররা আওয়ামী লীগের পক্ষেই যাবেন বলে দাবি দলটির নেতা-কর্মীদের।

বিএনপির রাজনৈতিক জেলা হিসেবে সৈয়দপুর পরিচিত হলেও এখানে দলটির ভোটের ফলাফল ভালো হয়নি। গেলো ১১টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে ২টিতে জয় ঘরে আনতে পরেছে। তার মধ্যে একবার ১১ দিনের জন্য। তবে এবার দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি এবং আন্দোলনের কারণেই জনগণ তাদের পাশে থাকবে বলে মনে করছেন তারা।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নীলফামারি-৪ আসনে প্রথম, নবম, দশম সংসদে আওয়ামী লীগ, দ্বিতীয় ও অষ্টম সংসদে বিএনপি, তৃতীয়, চতুর্থ ও একাদশ সংসদে জাতীয় পার্টি, পঞ্চম সংসদে ন্যাপ মোজাফপর প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এই আসনে বিএনপি শুধু ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১১ দিন মেয়াদি সংসদে বিজয়ী হন।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক সমীকরণ কী হয়, তার ওপর নির্ভর করছে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী- ৪ সংসদীয় আসনে কোন দলটি প্রতিনিধিত্ব করবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে।
আরও পড়ুন: এবার ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ, বিএনপি নির্ভার
আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী একাধিক প্রার্থী। মাঠে-ময়দানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি। আর জাপার বর্তমান এমপি আদেলুর রহমান এবারও নির্বাচন করার জন্য তৎপর আছেন। এই তিন দলের বাইরে আগেই প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে বসে আছে জামায়াত।
একাত্তর/আরএ
