ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাম ও গণতান্ত্রিক প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের প্রাক্তন নেতারা।
রোববার (২৪ আগস্ট) সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৩৫ জন প্রাক্তন নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে সই করেছেন- আশরাফুল হক মুকুল (সাবেক ডাকসু সদস্য), ডা. মো. গোলাম রব্বানী, সাদরুল আলম হারুন, অজয় রতন বড়ুয়া, নাঈম উদ্দিন, ইসহাক সরকার, মামুন রফিক, ড. জহিরুল ইসলাম, মো. ফরিদুল আলম, রায়হান কবির বিট্টু, তাজউদ্দীন মাহমুদ নান্নু, খোকন দাস, মাজহার জীবন, মোশাররফ হোসেন, সাইদুল হক খন্দকার সবুজ, মো. ঈমান হোসেন কানন, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, সাইফুজ্জামান সাকন, জহিরুল ইসলাম কচি, স্নেহাদ্রি চক্রবর্তী রিন্টু, সুশান্ত সিনহা, সুব্রত সরকার , পারভীন আক্তার, ইউসুফ হারুন নূরী, ফেরদৌসি রিতা, আগা তৌফিক আলম আনন্দ, আল হোছাইন চিশতী, আলী মো. আবু নাঈম, সাদরুল হাসান রিপন, আবু রায়হান, আমিনুল আকরাম, মর্জিনা খাতুন, ধ্রুব হোর, ইভা মজুমদার ও ফাহিমা কানিজ লাভা।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বাংলাদেশের গণমানুষের লড়াইয়ের ইতিহাস আর এ দেশের ছাত্রসমাজের লড়াইয়ের ইতিহাস খুব ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং পরিপূরক। ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত অভ্যুত্থানে ছাত্রদের ভূমিকা ছিলো অগ্রণী। এসব কারণে দেশের মানুষও ছাত্রসমাজের কাছ থেকে বহু কিছু প্রত্যাশা করে। এমন পরিস্থিতিতেই আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মিলিত হয়েছি এবং আমাদের প্রত্যাশা তুলে ধরছি।
'নব্বইয়ের সামরিক স্বৈরাচার পতনের পর থেকেই ক্যাম্পাসগুলোতে ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস করা হয়েছে। সরকারগুলো ছাত্রসংসদ নির্বাচন হতে দেয়নি। কেবল কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করার জন্যে হাসিনা সরকার গত ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন দিয়েছিল। সে নির্বাচনও হয়েছিলো পুরোপুরি সরকারি দল এবং রাষ্ট্র-প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর এখন ডাকসু নির্বাচনের আয়োজন শুরু হয়েছে— যা অত্যন্ত আশার ব্যাপার।'
'বাংলাদেশের বাম-প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ধারণকারী আরও অসংখ্য মানুষের মতো আমরাও ভেবেছিলাম যে ডাকসুতে বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তির একটা ঐক্যবদ্ধ পরিষদ দেখতে পাবো। কিন্তু সেটা হয়নি। এটা আরও বহুজনের মতো আমাদেরও ব্যথিত করেছে। এ বিভক্তি দূর করে যাতে একটা ঐক্যবদ্ধ পরিষদ গঠন করা যায়, আমরা সে আবেদন রাখছি।'
তারা বলেন, একই সাথে আমরা আবেদন করবো, জাকসু, রাকসু, চাকসু, বাকসু, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো যাতে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিষদ গঠন করে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এর সাথে সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের আবেদন— নির্বাচনে বামপন্থি ও গণতান্ত্রিক ছাত্র প্রতিনিধিদের পক্ষে দাঁড়ান, ভোট দিয়ে তাদের বিজয়ী করুন। কারণ, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ইতিহাস এটা দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেছে— জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম, সাম্রাজ্যবাদ ও আগ্রাসন বিরোধী সংগ্রাম, জাতীয় সম্পদ রক্ষার সংগ্রাম, নারীর অধিকার রক্ষার সংগ্রাম, শিক্ষার অধিকার রক্ষার সংগ্রাম— সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার সমস্ত লড়াইয়ে বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তিই মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, একই সাথে আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি যাতে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রতিটি সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়, এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসহ সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করা হয়।
ডাকসু: সাইবার বুলিং প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ
ডাকসু নির্বাচন: ভোটারদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় হাইকোর্টে রিট