ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রশান্ত মসহাসাগরের কাছের এক শহর সান্তা ক্লারা। এই নগরকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে বিশ্বের প্রযুক্তি রাজধানী- সিলিকন ভ্যলি। সেই শহরের মেয়র লিসা এম. গিলমোর। সম্প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণে সেখানে অনুষ্ঠিত রোড শো’তে অংশ অতিথি হয়ে এসেছিলেন তিনি।
সেই সময়ে সান্তা ক্লারা'র এই নগরমাতার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। আলাপচারিতায় উঠে আসে তার মেয়রের দায়িত্ব ও দর্শন, করোনাকালে নাগরিকদের পাশে থাকা নারীর বাধা ও ক্ষমতায়নসহ নানা বিষয়।
জুলিয়া: আপনার মতে একজন মেয়রের দায়িত্ব ও কর্মদর্শন কি?
লিসা: দেখুন মেয়র হিসেবে আমার দর্শন হলো নাগরিকদের উন্নত জীবনযাপনের জন্য সব রকমের সুবিধা নিশ্চিত করা। তাই যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও দর্শন অনুসরণ করে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে সব সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য দায়িত্ব পালন করছি আমরা।
উন্নত অবকাঠামো, পুলিশি নিরাপত্তা ফায়ার সর্ভিস, উন্নত রাস্তা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সুবিধাসহ মানসম্মত জীবন যাপনের জন্য যতো কিছু প্রয়োজন সব দিয়ে যাচ্ছি আমরা। একটি আদর্শ শহরে খেলার মাঠ, লাইব্রেরি, পার্কসহ নানা সামাজিক স্থাপনাও অবশ্যই থাকতে হবে যেনো নাগরিকরা আনন্দদায়ক জীবন উপভোগ করতে পারে; আমরা তাও নিশ্চিত করছি।
জুলিয়া: করোনা আক্রান্ত ও মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের জন্য কি করছেন আপনারা?
লিসা: করোনা আক্রান্ত বা কারোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আমরা অনেক কাজই করেছি এবং করছি। আমরা নগর প্রশাসন সামর্থ্যহীনদের বিশেষ করে দুস্থ শিশু এবং বৃদ্ধদের খাবার সরবরাহ করছি, নাগরিকেদের চিকিৎসা সুবিধা পেতে সহায়তা করছি।
করোনার প্রভাবে এই শহরে ছোট ব্যবসায়ীদের অনেকেরই ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। আমরা তাদের আবার সহজ পুঁজির অর্থ দিচ্ছি। যারা চাকরি হারিয়েছে তাদেরকে সহায়তা করছি, যারা বাসা ভাড়া দিতে পারছে না তাদেরকেও নানাভাবে সহায়তা করছি। আমি মনে করি এগুলো আমাদের দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালনে আমি এবং আমরা অংগীকারাবদ্ধ।

লিসা: হ্যাঁ হয়; এটি পুরুষ নিয়ন্ত্রিত সমাজ তাই বাধাতো আছেই। অনেক পুরুষই মানসিকভাবে নারী নেতৃত্বকে পুরুষের সমান মর্যাদায় নিতে চায় না, আমাদের ক্ষমতায় মেনে নিতে চায় না। আমি নিজেই এই অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছি অনেকবার।
তবে আমি ধৈর্য রেখে কাজ করেছি আর বাধা জয় করেছি। আমাদের সান্তা ক্লারায় সবশেষ সিটি নির্বাচনে আমরা ছয় জন নারী কাউন্সিলর পেয়েছি।
সিটি ম্যানেজার, ফিন্যান্সিয়াল ডিরেক্টরসহ বেশিরভাগ পদেই নারীরা নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু আমি দেখেছি পুরুষদের কাছে এটা খুব একটা সুখকর মনে হয়নি।
জুলিয়া: নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত মত কি?
লিসা: নারীর জন্য ঘরের বাইরে সব কাজের জায়গা এখনো কঠিন। তদের পুরুষদের সঙ্গে সমান চলতে গেলে নিজেদের দক্ষ করার বিকল্প নেই। পৃথিবী এখনো পুরুষতান্ত্রিক তবে তাদের বুঝতে হবে যে নারীরাও সমঅধিকার প্রাপ্য। নারীরা কাজে বেশি আন্তরিক এবং গুছানো।
নারীদের কাজের ধরনও ভিন্ন। তাই এদের একে অন্যকে সহযোগিতা করে এগিয়ে হবে। আমি মনে করি নারীদের মূল অর্থনীতির সাথে যুক্ত হতে হবে, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন সব কিছুতেই কাজ করতে হবে, দক্ষ হতে হবে। নিজেদের এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন বিশ্ব তাদের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতা অনুভব করে এবং স্বীকৃতি দেয়।
জুলিয়া: বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনি কি জানেন, কি শুনেছেন?
লিসা: আমি জানি বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়েছে। বিশেষ করে গেলো দশ বছরে দেশটির অর্থনীতির অবিশ্বাস্য উন্নতি হয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পথে হাঁটছে এখন বাংলাদেশ। আপনাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব আমার ভালো লাগে।
আমার শহরে অনেক বাংলাদেশি রয়েছে, যাদেরকে আমি চিনি। মানুষ হিসাবে তারা অনেক ভালো। তাই, একবার হলেও বাংলাদেশ ভ্রমণে আমরা ইচ্ছা রয়েছে।
একাত্তর/এআর
