গোয়েন্দা
পুলিশের (ডিবি) অফিসে গিয়ে আলোচিত
ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের অভিযোগ দেয়ার খবরে ‘অবাক’ হয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সাংবাদিকদের এই বিএনপি নেতা বলেছেন, ‘আমিতো তার পক্ষে ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এই অভিযোগটাই মিথ্যা।’
রিজভী বলেন, ’২০-২৪ দিন আগে রাজশাহীতে দলীয় একটি কর্মসূচিতে বলেছিলাম যে, হিরো আলমের মতো একটা নিরীহ ছেলেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আঘাত করল। কেন? সে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরাফাতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।’
রিজভী বলেন, ‘এখন ওই বক্তব্যকে হঠাৎ ভিন্নভাবে কালার দেয়ার জন্য এই অভিযোগ আনা হয়েছে। উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য একটাই, আন্দোলন থেকে জনদৃষ্টি ফেরানো। আমি মনে করি,এসব করে কোনো লাভ হবে না। আমরা জানতে পেরেছি, সরকারের এজেন্সিরা ডেকে এনে এসব কাজ করাচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে, দেয়া হচ্ছে। সুতরাং সরকারের নির্দেশনায় আরও মামলা হলে তাতে আমরা ভীত নই।’
রুহুল কবির রিজভীর কথায় ‘মানহানির’ অভিযোগ তুলে আইনি সহযোগিতা চাইতে রোববার দুপুরেগোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদের কাছে যান হিরো আলম।
ডিবি প্রধান হারুন পরে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তার পাশে হিরো আলমকে অভিযোগের চিঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ওই ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, ‘বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা প্রধান হারুন অর রশিদের কাছে (ডিবি) কার্যালয়ে অভিযোগ জমা দেন হিরো আলম।’
ঢাকা-১৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম সেখানে লিখেছেন, গত ৫ অগাস্ট তিনি একটি ভিডিও দেখেন সোশাল মিডিয়ায়, যেখানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হাজারো জনতার সামনে বক্তব্যে তার প্রসঙ্গ টানেন।
‘বক্তব্য প্রদানকালে বলেন যে, হিরো আলমের মত একটা অর্ধ পাগল, অর্ধ শিক্ষিত, একটা লোক, সে নির্বাচন করছে, মানে রুচি কতটা বিকৃত হলে পরে এরা এ কাজ করতে পারে।’
হিরো আলম বলছেন, ‘আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ২০১৮ সালে বগুড়া-৪ আসন থেকে এবং ২০২৩ সালে বগুড়া-৪ আসন ও বগুড়া -৬ আসন এবং ঢাকা ১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের চুলচেরা বিশ্লেষণে আমি একজন সুস্থ, নিবার্চন করার জন্য উপযুক্ত নাগরিক হিসাবে তিনবার প্রমাণিত হয়েছি। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান প্রচার করি। যাতে আমার অসংখ্যা ভক্তবৃন্দ আছে। বর্ণিত বক্তব্যের কারণে আমি হতাশা অনুভব করছি, আমার ভক্তবৃন্দের মাঝেও যথেষ্ট হতাশাসহ ক্ষোভ বিরাজ করছে।’
হিরো আলম লিখেছেন, ‘জনাব রুহুল কবির রিজভীর আক্রমণাত্মক মানহানিকর বক্তব্যের কারণে আমি মান-সম্মানহানিসহ সামাজিকভাবে চরম হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। উল্লেখ্য যে, বিএনপির বিভিন্ন প্রোগ্রামে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে আমাকে নিয়ে কটূক্তি ও আক্রমণাত্মক মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে অপমান-অপদস্থ করেছে।’
‘তাছাড়া তার (রিজভী) এই অপমানকর/আপত্তিকর বক্তব্যের কারণে আমি বিএনপির নেতা/কর্মী তথা রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের হামলা/হয়রানির আশঙ্কা করিতেছি। এই বিষয়ে আমি আইনগত সহযোগিতা কামনা করছি।’
ডিবিতে অভিযোগ দিয়ে হিরো আলম ঢাকার আদালত পাড়ায যান। সেখানে তিনি আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেন। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আজ নয়, পরে মামলা করবেন।
একাত্তর/কেএসএইচ
