আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের জন্যে দেশখ্যাত নড়াইল-২ আসনও। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার মত সর্বজনীন প্রার্থী নির্ধারণ করেও শেষ রক্ষা হয়নি। এবারও দলের কাছে মনোনয়ন চান কমপক্ষে ছয় জন প্রার্থী। চূড়ান্ত কোন্দল রয়েছে বিএনপিতেও। যদিও তাদের নেতা কর্মীরা বলেন তারা এখন এক দফার আন্দোলনে মনোযোগী। আর, ভোটাররা বলছেন বিএনপি আসলে আওয়ামী লীগের ভাগাভাগির সুযোগ নিতে চায়।
‘নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত’ মাশরাফি বিন মর্তুজা রাজনীতিতে নেমেই ছক্কা হাঁকান। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে বিপুল ভোটে জয় পান। পরে তার আসনে আইটি পার্ক, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, স্টেডিয়াম সংস্কার, নতুন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারসহ বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ করেন। সেই কাজ এখনও চলছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল এবং ভোটারদের মধ্যে মাশরাফির ব্যাপক জনপ্রিয়তা দেখা যায়।
ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্তিশালী দুর্গ হিসাবে পরিচিত নড়াইল-২ আসনে নির্বাচিত হবার পর মাশরাফি নিয়মিত এলাকায় এসেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে যে কাজ দিয়েছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করছেন। এলাকার মানুষ তার সঙ্গে আছেন। মাশরাফি বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছেন দুর্বার গতিতে।
লোহাগড়া ও সদর উপজেলার দুটি পৌরসভা এবং ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে নড়াইল-২। ১৯৯১ সালে এই আসনে নির্বাচিত হন নৌকার প্রার্থী।
পরের তিনটি নির্বাচনেও জয় ধরে রাখে দলটি। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন জোটসঙ্গী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী। আর সবশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের চমক দেখিয়ে মনোনয়ন পাওয়া মাশরাফি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে এমপি হন।
প্রতিবার এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল প্রকাশ্য হয়। অথচ একক ভোট তাদের বেশি। ২০০১ এ আসন হারানোর শঙ্কায় এই আসনে নিজেই নির্বাচন করেছিলেন আওয়ামী লীগ প্রধান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারও আগ্রহী প্রার্থীর সংখ্যা পাঁচজনের বেশি। যদিও তাদের অনেকেই বলছেন, তারা মনোনয়ন চাইবেন। না পেলে নৌকার সঙ্গে থাকছেন।
মাশরাফি ছাড়াও এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন জেলা কমিটির সভাপতি সুভাষ বোস, সহসভাপতি আসিফুর রহমান বাপ্পী, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন, নড়াইল পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাদিবুর রহমান তাপস ও আওয়ামী লীগ নেতা লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ হাসান ইকবাল।
আসনটিতে মাত্র একবার জয় পাওয়া বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় কোন্দল নিরসন। তবে দলের নেতারা বলছেন, দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেই কার্যক্রম চালাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। এখন তাদের মূল লক্ষ্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন চাঙা করা। নড়াইল-১ এক আসনের চেয়ে এ আসনে বিএনপির ভোট বেশি। তবে তাদেরও দলীয় পদ এবং মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল রয়েছে। এবারও মনোনয়নের আশায় দলে ও এলাকায় যোগাযোগ রাখছেন কমপক্ষে তিনজন প্রার্থী।
বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ও সহসভাপতি জুলফিকার আলী। ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি নজরুল ইসলাম ও জেলা জাসদের (আম্বিয়া গ্রুপ) নেতা হৈমাতুল্লাহ হিরু।
এই আসনে জামায়াতের ভোটব্যাংক রয়েছে। ভোটাররা বলেন, এখানে বিএনপির ভোট মূলত জামায়াত নির্ভর। এতদিন জোটের নির্বাচন করলেও এখন একক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টিও। বরেণ্য চিত্র শিল্পী এস এম সুলতান, কবিয়াল বিজয় সরকার জন্মভূমি এই নড়াইলে-২ আসন। আসনটি সদরের ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন, এবং লোহাগড়ায় ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।
নড়াইল-১ আসনে মূল লড়াই আওয়ামী লীগের মধ্যেই