ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে আবারও দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটি বলছে, বাংলাদেশে নির্বাচনের পর ‘আরব বসন্ত’ ঘটাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে, বাংলাদেশে ‘আরব বসন্তের’ সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনের পর দেশে আরব বসন্ত হবে, এমন উপাদান বাংলাদেশে নেই। বিএনপি ও তার দোসররা নির্বাচন বানচালে প্রতিদিন আগুন দিচ্ছে। হরতাল-অবরোধ ডাকছে। নির্বাচন বানচালে তারা যতই বাধা দিক নির্বাচন বাধাপ্রাপ্ত হবে।
গত ১৫ ডিসেম্বর রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে বলেন, গত ১২-১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশে সরকারবিরোধীরা রাস্তাঘাট অবরোধ করে, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। আমরা এসব ঘটনার সঙ্গে ঢাকায় পশ্চিমা কূটনৈতিক মিশনগুলোর, বিশেষ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক লক্ষ করছি।’

মারিয়া আরও বলেন, জনগণের ভোটের ফল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সন্তোষজনক মনে না হলে ‘আরব বসন্তের’ মতো করে বাংলাদেশকে আরও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হতে পারে। তার বক্তব্য অনুসারে, এমন আশঙ্কার গুরুতর ভিত্তি রয়েছে যে আগামী সপ্তাহগুলোয় ‘পশ্চিমা শক্তিগুলোর পক্ষে অসুবিধাজনক’ বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকমের অবরোধ আরোপ করা হতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর ওপর আঘাত আসতে পারে; সেই সঙ্গে কিছু সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক রায় প্রদানে বাধাদানের তথ্যপ্রমাণহীন অভিযোগ তুলে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত হবে, এমন সম্ভাবনা কম। তবে আমরা মনে করি, বাইরের শক্তিগুলোর সব ষড়যন্ত্রের পরেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার বিষয়টির সুরাহা হবে দেশটির জনগণের দ্বারাই, অন্য কোনো শক্তির দ্বারা নয়।

রাশিয়ার অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মোমেন বলেন, এটি তাদের (রাশিয়া) কাছে বলুন, আমরা এ বিষয়ে জানি না। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। অনেকে অনেক ধরনের কথা বলবে, আমরা এ নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমরা সার্বভৌম, আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি।
রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সেমিনার শেষে তিনি আরও বলেন, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি। কে কী বলল না বলল, এটি তাদের মাথাব্যথা। আমরা পরাশক্তিগুলোর টানাটানিতে পা দিতে চাই না। আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি নিয়ে আমরা চলতে চাই।
অন্যদিকে, নির্বাচনকে বিএনপি ও তার দোসররা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাগাভাগির নির্বাচন’ বলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচন বানচালে তারা যতই বাধা দিক, নির্বাচন বাধাপ্রাপ্ত হবে না। ভোটের পর দেশে আরব বসন্ত হবে, এমন উপাদান দেশে নেই।

তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দিনকে এক বিএনপি নেতা পরাজয় দিবস বলছেন। পরাজয় তো বিএনপি ও জামায়াতের- পাকিস্তানের যারা দোসর। তারা মানুষের জন্য রাজনীতি করে না, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ষড়যন্ত্র-সহিংসতা, গুপ্ত হামলা চালিয়ে নির্বাচন বানচালে তাদের রঙিন খোয়াব সফল হবে না।
এখন অনেকটাই প্রকাশ্য বিএনপি-জামায়াত সম্পর্ক
রেললাইন কেটে ফেলার আগে যা করেছিলো দুর্বৃত্তরা