চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচনী চিত্র এবার একেবারেই ভিন্ন। আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের সমর্থন আশা করছিলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী, কিন্তু তাকে নিরাশ করে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পাঁচটি ওয়ার্ড আর বোয়ালখালী উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
তবে জাপার প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয় কুমার চৌধুরীর পক্ষে ভোট চাইছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরুদ্দিন। আর আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও তার লোকজন।
নিজ দলের নেতাদের সমর্থন আর সহযোগিতা পেয়ে জয়ের আশা করছেন এই দুই প্রার্থী।
এই আসনে ফুলকপি মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয় কুমার চৌধুরী। তিনি বলেন, আমাদের অর্থবিত্ত বেশি না থাকলেও জনগণের শক্তি আমাদের পাশে আছে, সারাজীবন রাজনীতি করেছি, জনগণের শক্তিকে কাজে লাগিয়েই নির্বাচনে জয়ী হতে চাই।
অন্যদিকে কেটলি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুচ ছালাম নির্বাচন করছেন। তিনিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। জানালেন মানুষ ব্যাপক সাড়া দিচ্ছে তার পক্ষে।
এদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থন আশা করলেও মাঠে তা পাচ্ছেন না জাতীয় পার্টির প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ। শুধু নিজ দলের লোকজন নিয়েই প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। আসনটিতে কখনোই জাতীয় পার্টির তেমন ভোট ছিলো না। এই নির্বাচনী এলাকার প্রায় পাঁচ লাখ ভোটারের এই আসনে কখনো জয় পায়নি দলটি। এখানে দলটির ভোট তিন শতাংশেরও কম। তাই এবার জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে জয় পেতে নির্ভর করতে হবে নির্বাচনে না আসা বিএনপির সমর্থকদের ওপর।
এখানকার মানুষের প্রধান দাবি কর্ণফুলী নদীর উপর কালুরঘাট সেতু। প্রতিবার নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা এই প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। তাই সেতু নির্মাণ করে দিতে পারবেন এমন প্রার্থীকেই বেছে নিতে চান ভোটাররা।
