আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উপহার দেওয়া যায় সেজন্য মৌলিক কিছু সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে যেসব পরামর্শ রয়েছে তা আগামী ৯ অক্টোবর জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি।
শনিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সংস্কারকে এক নম্বরে গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সংস্কারের টাইমলাইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা দুটি বিষয় দেশবাসীর কাছে চেয়েছি এবং সরকারের কাছে জানিয়েছি। একটা রোডম্যাপ হবে সংস্কারের, আরেকটা নির্বাচনের।
শফিকুর মনে করেন, সংস্কার সফল হলে নির্বাচন সফল হবে। তাই দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত তিনটা নির্বাচনে জাতি বঞ্চিত হয়েছে। আগামীতে জাতির সামনে একটা গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া মূল কাজ। সেজন্য মৌলিক বিষয়ে তাদের কিছু সংস্কার করতেই হবে।
তিনি বলেন, আগামী ৯ অক্টোবর জাতির সামনে আমাদের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরবো। কী কী সংস্কার এই মুহূর্তে প্রয়োজন, কী কী সংস্কার পরবর্তী সময়ে লাগবে, সেই বিষয়গুলো জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা যায় এবং সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের কথাবার্তা হয়েছে। আমরা আশা করছি, বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেশকে একটা ভালো পর্যায়ে নিয়ে নির্বাচন দিতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকে বলে আসছিলাম সংস্কারের জন্য সরকারকে যৌক্তিক সময় দিতে চাই। সেই যৌক্তিক সময়টা কী হবে? এটা নিয়ে অচিরেই আমরা কাজ করবো। এটা দেরি হবে না। আমরা সামনে আগাতে চাই।
এছাড়া কোনো ধর্মের কারণে যেন মানুষের ওপর জুলুম, নির্যাতন না হয় সে বিষয়েও প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে বলে জানান ডা. শফিকুর।
শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের জামায়াতের প্রতিনিধি দল যমুনায় যান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন- দলটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, আ ন ম শামসুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মাইনাস টু নয়, উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দেখতে চাই: ফখরুল