২১ জানুয়ারি বরিশালে গিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করিমের বৈঠক করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে দল দুটির মতের ভিন্নতা থাকলেও তাদের সেই বৈঠক রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতুহলের জন্ম দেয়।
এর এক সপ্তাহের মধ্যেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে বৈঠক করলো বিএনপি।
বৈঠকে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ ও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করাসহ ১০ দফা সিদ্ধান্তে আসেন দল দুটির শীর্ষ নেতারা।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) পুরানা পল্টনে নোয়াখালী টাওয়ারে ইসলামী আন্দোলনের দলীয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলুকে নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপি মহাসচিব।
সাক্ষাতকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম।
দল দুটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনা চলে প্রায় দুই ঘণ্টা। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে ব্রিফিং করেন বিএনপি মহাসচিব ও ইসলামি আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুফতি রেজাউল করিম।

এসময় বিএনপি মহাসচিব জানান, ইসলামী আন্দোলনের আমিরের সঙ্গে বিএনপির ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিগুলো এখন থেকে একে-অপরের বিরুদ্ধে আঘাত করে আর কথা বলবে না জানিয়ে ইসলামি শরিয়াহ বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য দেবেন না বলেও জানান তারা।
বৈঠকে নেওয়া যৌথ সিদ্ধান্তগুলো হলো:
- আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদমুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম টেকসই গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা।
- দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি ও টাকাপাচারকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
- ভোটাধিকারসহ সব মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা।
- নূন্যতম প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
- দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং সব অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করে নিয়ে আসা।
- আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তি দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা।
- ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে আঘাত করে কথা না বলা।
- আগামীতে যাতে আওয়ামী লীগের মতো আর কোনও ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা।
- ইসলামী শরিয়াহবিরোধী কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং ইসলামবিরোধী কোনও কথা না বলা।
- প্রশাসনে এখনও বিদ্যমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্রুত অপসারণ করা।
