ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হামলাকারীদের গ্রেপ্তারসহ তিন দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেধে দিয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। এ সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হলে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান শুরু না হলে স্বরাষ্ট্র, আইন ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ সময় তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বাধীন ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে ৪৮ ঘণ্টার সময়মীমা ও তিন দাবি তুলে ধরেন সাদিক কায়েম। এ সময় তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনটি মূল দাবি উত্থাপন করেন তিনি।
তিনটি দাবি তুলে ধরে সাদিক কায়েম বলেন, আমাদের ভাই ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারী সব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাসহ রাষ্ট্রের সব সংশ্লিষ্ট অর্গানকে দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং যাদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
দ্বিতীয় দাবিতে তিনি বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এলাকাভিত্তিক চিরুনি অভিযান শুরু করতে হবে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের সব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে হবে এবং সব ধরনের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের অবহেলা আর সহ্য করা হবে না।
শেষ দাবিতে বলা হয়, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রথম ও অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসেবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রদত্ত রায় কার্যকর করতে হবে। গণহত্যাকারী সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়ার প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে হবে। অভিযুক্তদের ফেরত না দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা যাবে না।
উপদেষ্টাদের পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়ে সাদিক কায়েম স্পষ্টভাবে বলেন, যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবির দৃশ্যমান উন্নতি না হয়, তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ আইন ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে।
তিনি জানান, তিন দাবি দ্রুত কার্যকর না হলে জুলাইয়ের চেয়েও শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং জুলাইয়ের বিপ্লবকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে লড়াই অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় ঐক্য ও গণকমিটি গঠন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বামপন্থী ও ইসলামী সংগঠনসহ সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঐক্যের ডাক দেন সাদিক। তিনি প্রতিটি পাড়া ও ওয়ার্ডে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘গণকমিটি’ গঠনের নির্দেশ দেন।
এই কমিটির কাজ হবে সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে থানায় সোপর্দ করা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গণ কমিটিকে সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
ইসি ও আইনজীবীদের প্রতি কঠোর বার্তা ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) তীব্র নিন্দা জানান সাদিক কায়েম। তিনি সিইসিকে দ্রুত বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি আদালতগুলোতে যেসব আইনজীবী টাকার বিনিময়ে ‘পতিত ফ্যাসিস্টদের’ মামলা প্রত্যাহার বা জামিনের জন্য কাজ করছেন, তাদের হুঁশিয়ার করেন। সাদিক কায়েম বলেন, ‘গণহত্যাকারী ও শিশু হত্যাকারীদের পক্ষে যারা অবস্থান নেবে, তাদের তালিকা প্রকাশ করে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে।’
রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়। সেখান থেকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়।
সবশেষ সোমবার বেলা ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়।
