২০১৩ সালের পাঁচ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে ওই রাতের অভিযানে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, আগামী ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) এই প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আসামির সংখ্যা কমতে বা বাড়তে পারে।
তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ৪১ জন আসামির মধ্যে প্রধান আসামি করা হয়েছে শেখ হাসিনাকে। এছাড়া সাবেক আইজিপিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং দুইজন সাংবাদিককেও এই প্রতিবেদনে আসামি করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে দাবি করেন, এই মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘন হবে না। সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে,সকালে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সরাসরি তথ্য জানতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের একটি শীর্ষ প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে আসেন। তারা প্রসিকিউটরদের সঙ্গে মামলার হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। বৈঠক শেষে হেফাজত নেতারা গণমাধ্যমকে জানান, খসড়া তদন্ত প্রতিবেদনে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
২০১৩ সালের ৫ মে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন বাতিল এবং ধর্ম অবমাননার সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ ডেকেছিল হেফাজতে ইসলাম। ওই দিন দিনভর সংঘর্ষের পর রাতে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিত অভিযান চালায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বরাবরই এই অভিযানে ব্যাপক হতাহতের তথ্য ও সংখ্যা অস্বীকার করে আসছিল।
গত ২০২৪ সালের পাঁচ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে খসড়া প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছাল। আইনি প্রক্রিয়া ও কারিগরি যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) জমা দেওয়ার মধ্যদিয়েই বহুল আলোচিত এই শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে।
