সংবিধান আঁকড়ে ধরে রেখে সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদ তাড়ানো যায়নি উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংবিধান খুঁজতে গিয়েই তো সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদ তাড়াতে পারেননি। অনুমতি নিয়ে কিছু সভা-সমাবেশ করতে পেরেছেন মাত্র। সংবিধান মানলে ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো না। সংবিধানের নেশা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ‘জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমীর বলেন, এই সংবিধান ফ্যাসিবাদকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো। অতীতে বহুবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে, পরবর্তীতে আদালতে গিয়ে তা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে—এ কারণে আমরা এই প্রক্রিয়ার বিরোধী।
সংবিধানের পাশাপাশি বিএনপির ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে। তাদের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী অন্তত ৯০টি আসনে আওয়ামী লীগের ভোটে তারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তার অভিযোগ, কার্ড দেওয়ার আগে মানুষের ওপর কর ও দুর্নীতির বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষ এতে অতিষ্ঠ।
একই সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদসহ অন্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে বিএনপির কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিরো না, বাস্তবতায় তারা সেসব বিষয় মানছে না বলে অভিযোগ তুলে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি মুখে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও কাজে তার প্রমাণ রাখছে না। একপেশে ও একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করাই বর্তমান সংকটের একমাত্র সমাধান।
এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ বলেন, তারেক রহমানের চারপাশে যারা আছে, তারা গালাগালি ছাড়া অন্য কিছু জানে না। দেশের জন্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার মতো যোগ্যতা তাদের নেই। জনগণের স্বার্থে অনতিবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিন, তাহলে আর লংমার্চ হবে না।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ায় তারা জনগণকে আবোল-তাবোল বোঝানোর চেষ্টা করছে। কোনো রকম নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। এখন বিরোধী দলের ওপর দায় চাপিয়ে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে।
