হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার হাজতে থাকা অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক নারী কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে এ তথ্য জানান নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল হোসেন।
প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন—নবীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী এবং নারী কনস্টেবল আফসানা মিমি।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থানার হাজতে থাকা অবস্থায় সন্ত্রাসী বিরোধী আইনের মামলার আসামি শাহ তপুর স্লোগান দেওয়ার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। স্পর্ধাপূর্ণ এ ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে, থানার হাজতের মতো স্পর্শকাতর স্থানে কীভাবে মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও ধারণ করা হলো এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের এতে কোনো গাফিলতি ছিলো কি না।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে এসআই আসিফের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা শাহ তপুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরবর্তী সময়ে থানার হাজতে থাকা অবস্থায় শাহ তপুকে পানি দিতে যান একই গ্রামের বাসিন্দা শাহ জুয়েল। ওই সময় কৌশলে নিজের মোবাইল ফোনে শাহ তপুর বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ড করেন জুয়েল। ভিডিওতে আসামিকে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’সহ নানা রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ভিডিও ধারণকারী শাহ জুয়েলকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আগের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনাচর্জ মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, আসামিকে পানি দিতে যাওয়ার সুযোগে জুয়েল নামের ওই যুবক কৌশলে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় দায়িত্বে অবহেলার কারণে ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী ও নারী কনস্টেবল আফসানা মিমিকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে।
