কিছু গল্প হার না মানার, কিছু গল্প ভাবনার জগৎটাকে বদলে দেবার, কিছু গল্প শেখায়, কিছু গল্প স্বপ্ন দেখায়। কোনো কোনো গল্প সাহস যুগিয়ে লড়াই করতে শেখায়।
শেভি পিটারর্সের গল্পটা ঘুরে দাঁড়ানোর। বিদ্রূপের হাসি আর বিদ্বেষের আতস বাজি বিদ্ধ করেছে বার বার। হৃদয়ের ক্ষত মুড়ে রাখেন হৃদয়ে। জীবনের কুয়াশার জাল ছিঁড়ে মুক্তির হাসি হেসেছেন।
অন্ধকারের পথ মাড়িয়ে আলোতে এসেছেন। আলোকিত করেছেন চারপাশ। শেভি পিটার্স একজন বিপ্লবী বীরের চেয়ে কম নন।
শেভি পিটার্স যে বেঁচে আছেন সেটাই একটা বিস্ময়। দুই স্ট্রোক, আটত্রিশটা অপারেশন। মৃত্যুর চোখে চোখ রেখে প্রতিটা পলে পলে যুদ্ধ করছেন। জীবনের মানে যার কাছে মৃত্যুর সাথে লড়াই।
তার ভাষায়, দুই বছর বয়সে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট। সাত বছর বয়সে স্ট্রোক। দু’বছর পর আবারো স্ট্রোক। সার্জারির পর সার্জারি করাতে হয়েছে আমাকে।
দিনের পর দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। কখনও হাল ছাড়িনি। ডেডিকেশন থাকলে আপনাকে কোনো কিছু আটকে রাখতে পারবে না। আমাকেও পারেনি।
২২ বছর বয়সে মৃত্যু আবারো কড়া নাড়ে। এবার কিডনি ফেইল। দুইটা বিকল্প পথ ছিল। এক ডায়ালাইসিস দুই কিডনি প্রতিস্থাপন। শেভির প্রিয় ভাই ম্যাকডোনাল্ড তাকে নতুন জীবন দিলেন।
লোকজন ভাবেনি সে বেঁচে থাকবে। সে প্রমাণ করেছে সে একজন যোদ্ধা। শেভি পিটার্সের জীবনে পরশ পাথর হয়ে এলেন কোচ জন লেয়ার। প্রথম দিন শেভির সাথে তিন ঘণ্টা কথা বলেন জন।

বুঝতে পারলেন মৃত্যু তার এক নম্বর শত্রু। এক সপ্তাহ পর জন লেয়ারের পাঠশালায় শেভি। ৯৫ পাউন্ডের সেদিন ৯০ পাউন্ড ওজন তুলেছিলেন। সেদিনের পর কখনও থেমে থাকেননি তিনি।
আরও পড়ুন: মেসিকে নিয়ে তথ্যচিত্র বানাচ্ছে অ্যাপেল টিভি প্লাস
টানা এগারো মাসের অনুশীলন। সপ্তাহে ছয় দিন। দুই বেলা। সব আয়োজন ছিল ২০১৫ সালের স্পেশাল অলিম্পিকসের জন্য। তিনটা গোল্ড মেডেল জিতেছিলেন শেভি পিটার্স।
তিনটা ডিসিপ্লিনে মোট ৭৩৩ পাউন্ড ওজন তুলেছিলেন। নিজেকে প্রমাণ করেছেন মৃত্যুঞ্জয়ী হিসাবে। সেই সঙ্গে পথ দেখিয়েছেন বিশ্বের হাজারো তরুণকে। শিখিয়েছেন লড়াইয়ে মন্ত্র।
একাত্তর/এসজে
