ষষ্ঠবারের মতো শিরোপার স্বাদ নিলো অস্ট্রেলিয়া। ১৯৮৭, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭ এবং ২০১৫’র পর রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে এক লাখ ৩০ হাজার দর্শকের সামনে ভারতের কাছ থেকে এ জয় তুলে নেয় তারা।
রোববারের ম্যাচে জয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা শেষের জন্য আমাদের সেরাটা রেখে দিয়েছিলাম। আমরা পুরো টুর্নামেন্টে প্রথমে ব্যাটিং করেছি। তবে লক্ষ্যে তাড়া করতে নামার জন্য আজকের রাতটা দারুণ ছিলো। আমরা যতোটা ভেবেছিলাম, পিচ ততটা স্পিন সহায়ক ছিলো না। ছেলেরা ছিলো দুর্দান্ত। সবাই তারা মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, দলে আমি তাদের একজন, যারা স্নায়ু চাপে ভুগছিলাম। কিন্তু হেড এবং মারনাশ খেলাটাকে এগিয়ে নিয়েছে। যখন সে (হেড) হাত ভেঙে ফেলেছিল নির্বাচকেরা তখনো ওপর ভরসা করেছিল। এটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কাজে দিয়েছে। তার ব্যাটিং দেখা দারুণ ব্যাপার।
দর্শকদের চুপ করানো নিয়ে কামিন্স বলেন, ‘এটি দারুণ ছিল। বোলিং ইনিংসের সময় বেশ কয়েকবার পুরো গ্যালারি নীরব হতে দেখে আমি খুব খুশি ছিলাম। কয়েকবার তারা অনেক চিৎকার করেছে এবং এটিই সত্যিই অনেক বেশি ছিল।’
সঙ্গে ভারতীয় দর্শকদের প্রশংসা করতেও ভুল করেননি অজি দলপতি। বলেন, দর্শকরা দুর্দান্ত। ভারতে ক্রিকেটের জন্য থাকা এই প্যাশনের তুলনা নেই। পেছন ফিরে তাকালে এটি দারুণ মুহূর্ত। ফল যা-ই হোক না কেন, এমন একটি দিন আমরা ভুলব না।
বছরটা দুর্দান্ত কাটছে অস্ট্রেলিয়ার জন্য। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মাটিতে শিরোপা ধরে রাখা। তবে সবকিছুর চূড়ায় কামিন্স রাখছেন বিশ্বকাপ শিরোপাকেই। তিনি বলেন, চারপাশে তাকিয়ে ভাবছিলাম, আজ রাতে যা-ই ঘটুক না কেন মুহূর্তটি বিশেষ। বিশ্বকাপ জেতার পণ করেই এগিয়েছিলাম। এই বছরটি দীর্ঘসময় ধরে মনে থাকবে। শীতকালে অনেক সাফল্য পেয়েছি আমরা এবং এটা (বিশ্বকাপ) সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

টানা দুই হার দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপরের গল্পটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। টানা ৯ ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপের শিরোপাটাই নিজেদের ঘরে নিয়ে গেল অজি ক্রিকেটাররা।
ফাইনালের এই ম্যাচে টস জিতে বোলিং নেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ভারতের ইনিংস থামে মাত্র ২৪০ রানেই। জবাবে ৪২ বল বাকি থাকতেই ছয় উইকেট হাতে নিয়ে জয়ে বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
বিশ্বকাপ হেরে ‘অজুহাত’ দিলেন না রোহিত