ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের ফোয়ারা ছোটাচ্ছেন, তার ওপেনিং পজিশনে জাতীয় দলে জায়গা ফাঁকাও আছে। কিন্তু এনামুল হক বিজয়ের কাছে প্রত্যাশা অনুযায়ী আসছে না পারফরমেন্স। জাতীয় দলে ইন-আউটের মাঝে বেলা গড়ালো অনেক। বয়স ৩১ ছাড়িয়েছে। ক্যারিয়ারের এই পর্বে যেখানে বড় বড় ইনিংস খেলে তাক লাগানো কথা, সেখানে বিজয়কে লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে একাদশে জায়গা পেতে। কারণটা কী?
বিজয়কে নিজের সাহায্য নিজেকেই করতে হবে। ক্যারিয়ারটা যে সুতোর ওপর ঝুলছে। রান খরায় ন্যাশনাল টিম থেকে ছিটকে গেছেন, কিন্তু ঘরোয়া ওয়ানডেতে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হোল্ডারকে দলের বাইরে রাখাটাও যে ঠিক মানায় না।
কিন্তু সেই সুবিচারের সদ্ব্যবহার আর করতে পারছেন কই। ওয়ানডেতে সবশেষ ফিফটি প্লাস ইনিংস ২০২২ সালের আগস্টে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। জিম্বাবুয়ে বাদে অন্য দলের সাথে ফিফটি প্লাস ইনিংসের খোঁজ করতে ফিরতে হবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে তার আগের স্প্যানে, ২০১৪’য় সেন্ট জর্জে ১০৯ রানের ইনিংসটা খেলেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আর স্ট্রাইক রেট পঁচাত্তরের কিছু বেশি। বাজবলের এই জামানায় ওয়ানডে ওপেনার হিসেবে একটু বেশিই কম।
কিপার হিসেবে খেলতে ব্যাটিংটাও ভালো হয়, মুশফিকের এমন মন্তব্যের সমালোচনা হলেও ব্যাপারটা খাটছে বিজয়ের বেলাতেও।
ডেসিগজনেটেড উইকেট কিপার হিসেবে যে কটা ওডিআই খেলেছেন সেখানে গড় চল্লিশ ছুঁই ছুঁই। কিন্তু স্পেশালিষ্ট ব্যাটার হিসেবে সেটা আবার প্রায় দশ নেমেছে। তবে বিজয়ের ওয়ানডে ব্যাটিং ক্যারিয়ারের বিশেষ দিক, সমান তালে রান করেছেন, গড় রানে পার্থক্য বলতে ৩০ আর ৩১।
কিন্তু সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতায় বিজয় নিজের ঘরোয়া পারফরমেন্সে একটু বেশিই অবিচার করেছেন। ক্রিকেট অ্যানালিস্টরা এর পেছনে বেশ কয়েকটা কারণ সামনে আনছেন। প্রথমত, দলে জায়গা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়েই প্রতিবার নামতে হচ্ছে। বড় সময় একাদশের বাইরে থাকায় অভ্যস্ততা। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার, যে ঘরোয়া লিগে তিনি পারফর্ম করে এসেছে সেখানে বোলার আর উইকেটের মান ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটের ধারে কাছে নেই। জাতীয় দলে এসে নতুন বলে তাই প্রতিপক্ষের আগুনে বোলিং মোকাবেলার কাজটা সহজ হচ্ছে না বিজয়ের জন্য।
কিন্তু বিজয়ের ব্যাটে রান আসলে ব্যাটিং অর্ডারের বাকি অংশে অনেকটা স্বস্তি টাইগারদের। লিটনকে কিছুটা নিচে খেলানো যেত, কিংবা অনিয়মিত সৌম্য সরকারকে নিয়েও ভাবা যেত অন্যভাবে। থিতু হতে পারলে বিজয়ের সামনে এখনো দারুণ কিছু করার সময় আছে বটে। কিন্তু এসব কিছুর জন্যে আসল কাজটা যে করতে হবে বিজয়কেই।
নেপিয়ারে পেসারদের সাফল্য হুট করে নয়