৪০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! মেক্সিকোর মন্টেইরি স্টেডিয়ামে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করল ইরাক। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে 'লায়ন্স অফ মেসোপটেমিয়া'দের। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর আকাশপথের ভ্রমণ জটিলতাকে জয় করে ইরাকি ফুটবলারদের এই জয় যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানিয়েছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই জয়ের নেশায় মত্ত ছিল ইরাক। মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় আলি আল-হামাদির দর্শনীয় গোলে লিড নেয় তারা। তবে দক্ষিণ আমেরিকান শক্তি বলিভিয়াও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিল না; ৩৮ মিনিটে ময়েসেস পানিয়াগুয়া গোল করে সমতা ফেরান।
১-১ সমতায় বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় ইরাকের আসল দাপট। ৫৩ মিনিটে মার্কো ফারজির নিখুঁত ক্রস থেকে জয়সূচক গোলটি করেন আয়মান হোসেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বলিভিয়ার একের পর এক আক্রমণ বুক চিতিয়ে রুখে দিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় ইরাকি রক্ষণভাগ।

এই জয় শুধু মাঠের জয় নয়, এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক বিশাল লড়াইয়ের ফল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ইরাকি খেলোয়াড়দের মেক্সিকো পৌঁছানোই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। দলের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড ম্যাচ পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানালেও শেষ পর্যন্ত চার্টার্ড ফ্লাইটে মাত্র এক সপ্তাহ আগে মেক্সিকো পৌঁছায় দলটি। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত আর্নল্ড বলেন, এই জয় ৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আমার খেলোয়াড়রা সত্যিকারের ইরাকি মানসিকতা নিয়ে লড়াই করেছে এবং শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে গোল আগলে রেখেছে।

ইরাক এবার ৪৮ দলের এই মেগা আসরের ৪৭তম দল হিসেবে জায়গা করে নিল (অন্য ম্যাচে জ্যামাইকাকে হারিয়ে ডিআর কঙ্গোও কোয়ালিফাই করেছে)। তবে, বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইরাককে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। 'গ্রুপ আই'-তে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে শক্তিশালী ফ্রান্স, নরওয়ে এবং সেনেগাল। ১৬ জুন বোস্টনে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের অভিযান। এরপর ২২ জুন ফিলাডেলফিয়ায় ২০১৮-র চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং ২৬ জুন টরন্টোতে সেনেগালের মুখোমুখি হবে তারা।
১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর মাটিতেই শেষবার বিশ্বকাপ খেলেছিল ইরাক। চার দশক পর আবারও সেই মেক্সিকোর মাটিতেই ইতিহাস লিখে বিশ্বমঞ্চে ফিরল তারা। মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত সময়ের মাঝে এই ফুটবলীয় সাফল্য ইরাকিদের জন্য এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টির মতো এসেছে।
ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে ব্রাজিলের মধুর প্রতিশোধ