ফুটবল বিশ্ব এখন ফিফা বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপছে, আর সেই উন্মাদনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে বিশ্বের জনপ্রিয় খেলনা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান- লেগো । মেসি-রোনালদো-এমবাপ্পে-ভিনিসিয়াসের মতো কিংবদন্তি ও বর্তমান প্রজন্মের মহাতারকাদের নিয়ে বিশেষ লেগো সেট বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবল বাজারে বড় ধরনের আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা করছে ডেনমার্কের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান লেগো। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বের সেরা চার ফুটবলার- লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়ে বিশেষ কোলাবরেশন বা যৌথ প্রকল্প শুরু করেছে তারা।

বিশ্বকাপের আগেই ফুটবল প্রেমীদের জন্য সাতটি নতুন সেট বাজারে আসবে। এর মধ্যে চার খেলোয়াড়ের নামের প্রথম অক্ষরের নকশায় চারটি আলাদা সেট থাকবে। এছাড়া মেসি ও রোনালদোর জন্য থাকছে বিশেষ ডিসপ্লে মডেল। তবে, সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে থাকছে লিওনেল মেসির ১,৪২৭ পিসের একটি বিশেষ ত্রিমাত্রিক ওয়াল আর্ট। এতে তাঁর সিগনেচার বা ট্রেডমার্ক বিজয় উল্লাসের ভঙ্গিটি ফুটিয়ে তোলা হবে। এছাড়া কম বাজেটের সেটে থাকছে প্রতিটি খেলোয়াড়ের ক্ষুদ্র লেগো মূর্তি বা ‘মিনি-ফিগার’।
ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি এই উদ্যোগ নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত। তিনি বলেন, ফুটবলের মতোই লেগো খেলা মানে কোনো কিছু তৈরি করা, ভুল থেকে শেখা এবং সাফল্য উদযাপন করা। আমার মাঠের মুহূর্তগুলো লেগোর মাধ্যমে সৃজনশীল উপায়ে জীবন্ত হয়ে উঠবে দেখে খুব ভালো লাগছে।

অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রের কাছে লেগো শুধু একটি খেলনা নয়, শৈশবের স্মৃতির এক অনন্য অংশ। নিজের সংগ্রামময় দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি বলেন, ছোটবেলায় আমার খুব বেশি কিছু ছিল না, কিন্তু স্কুলে আমি লেগো দিয়ে খেলতাম। ফুটবল যেমন বিশ্বের মানুষকে এক সুতোয় বাঁধে, লেগোও তেমনি সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে আসে।
প্রায় ১০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি খেলাধুলার বাজারে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। গত মার্চে তারা বিশ্বকাপের রেপ্লিকা ট্রফি সেট বাজারে এনে দারুণ সাড়া পেয়েছে। এর আগে মোটর স্পোর্টস বাজারেও লেগো বড় সাফল্য পায়। গত বছর মিয়ামি গ্রাঁ প্রি-তে তারা ১০টি কার্যকর ফর্মুলা ওয়ান গাড়ি তৈরি করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।

লেগোর চিফ মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট অফিসার জুলিয়া গোল্ডিন জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের সময় শুধু এই সেটগুলোই নয়, বরং ফুটবল ভক্তদের জন্য বিভিন্ন ‘ফ্যান জোনে’ বিশেষ অভিজ্ঞতার আয়োজন থাকবে।
ফুটবল ও সৃজনশীলতার এই মেলবন্ধন ছোট-বড় সব বয়েসী ভক্তদের জন্যই এক নতুন আনন্দের খোরাক হবে। লেগোর এই সাহসী পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, মাঠের ফুটবলের আবেদন এখন আর শুধু গ্যালারিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে মানুষের ড্রয়িংরুমের শোপিস কিংবা সৃজনশীল খেলার উপকরণ হিসেবেও।
তথ্যসূত্র: বেইন স্পোটর্স
