হাঙ্গেরির মাটিতে আর্সেনালের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মেগা ফাইনাল। পিএসজিকে আবারও ইউরো সেরা বানানোর লক্ষ্যে উসমান দেম্বেলের চোখ এখন কেবলই সেই ট্রফির দিকে। তবে মাঠের সেই মহালড়াইয়ের আবহেই ফরাসি গণমাধ্যম 'আরএমসি স্পোর্ট'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফরাসি এই ফরোয়ার্ড এমন কিছু কথা বলেছেন, যা ফুটবল পাড়ায় বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
বিশেষ করে বিশ্বকাপে ফ্রান্স দলের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং মাইকেল ওলিসকে সাথে নিয়ে তাঁর গড়া নতুন 'ত্রয়ী' প্রতিপক্ষের মনে কতটা কাঁপন ধরাবে, সেই রসালো ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি।

ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর উদাহরণ টেনে দেম্বেলে খোলাসা করেছেন ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশমের নতুন রণকৌশল। তিনি বলেন, আমরা মাঠে নিজেদের মধ্যে প্রচুর কথা বলি এবং অনবরত পজিশন পরিবর্তন করি। ব্রাজিল আর কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে আমরা সবাই এত বেশি জায়গা অদলবদল করেছি যে, তা দারুণ কাজে দিয়েছে। এটা প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে আক্ষরিক অর্থেই একটা 'বিশৃঙ্খলা' তৈরি করে। এক মিনিটে ডিফেন্ডাররা দেখছে সামনে এমবাপ্পে দাঁড়িয়ে, ঠিক দুই মিনিট পরেই সেখানে হাজির ওলিস! কোচ দেশমও নাকি দেম্বেলে ও ওলিসকে ডানপ্রান্ত বা মাঝমাঠে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বন্দি না থেকে পুরো আক্রমণভাগে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করার লাইসেন্স দিয়ে রেখেছেন।

বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে থাকার সময় দুই পায়েই সমান দক্ষ এক গতিময় উইঙ্গার হিসেবে দেম্বেলের উত্থান বিশ্বফুটবলকে চমকে দিয়েছিল। তবে, বার্সেলোনায় তাঁর সময়টা চোট আর ধারাবাহিকতাহীনতায় কেটেছিল অম্ল-মধুর। পিএসজিতে আসার পর কোচ লুইস এনরিকে তাঁর খেলার ধরন খোলসসহ বদলে দেন। প্রথাগত উইঙ্গার থেকে দেম্বেলেকে তিনি রূপান্তর করেন এক ভয়ংকর সেন্ট্রাল অ্যাটাকারে।
শুরুতে এই পজিশন পরিবর্তন দেম্বেলে পুরোপুরি মেনে নিতে না পারলেও, এখন ব্যালন ডি’অরের বিবেচনায় চলে আসার পর তিনি বুঝছেন এটাই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা মোড়। এখন বল ছাড়াও মাঠে তাঁর অবদান আগের চেয়ে অনেক বেশি, আর ফ্রিল্যান্সারের মতো পুরো মাঠে ঘুরে খেলার স্বাধীনতাটাই এখন তাঁর সবচেয়ে প্রিয়।
এতদিন ক্যারিয়ারজুড়ে 'তরুণ প্রতিভা'র তকমা সেঁটে থাকা দেম্বেলে পিএসজিতে এসে এখন দলের অন্যতম সিনিয়র এবং ভরসার পাত্র। পিএসজির খোলনলচে বদলে ফেলার প্রক্রিয়ায় লুইস এনরিকে প্রথম দেম্বেলেকে বোঝান যে, তাকে এখন দলের নেতার ভূমিকা নিতে হবে।

দেম্বেলে জানান, গত দুই বছর ধরে এই ফর্মুলা আমার জন্য দারুণ খাটছে। কোচ আমাকে পরিষ্কার বলেছেন, দলে আমার ভূমিকা এখন অনেক বড়। তরুণ হোক বা সিনিয়ার, মাঠে প্রতিটি বলের পেছনে নিজের সেরাটা দিয়ে সবার জন্য আমাকে উদাহরণ তৈরি করতে হবে।
আর্সেনালের বিরুদ্ধে ইউরোপ সেরার মুকুট পরার মিশনের আগে দেম্বেলের এই চনমনে আত্মবিশ্বাস আর ফরাসি দলের আক্রমণের নতুন রসায়ন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের রাতের ঘুম হারাম করার জন্য যথেষ্ট।
