উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে আগামী সপ্তাহে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ডের আর্সেনাল এবং ফ্রান্সের প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অনুষ্ঠেয় এই মেগা ফাইনাল ঘিরে যখন ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ব্রিটিশ ফুটবল ভক্তদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে।
কারণ, দীর্ঘ ৩৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম যুক্তরাজ্যের সাধারণ দর্শকরা বিনামূল্যে টেলিভিশনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল দেখার সুযোগ হারাচ্ছেন। আর, এই ঘটনায় ব্রিটিশ ব্রডকাস্টার ‘টিএনটি স্পোর্টস’-এর ওপর বেজায় চটেছেন স্বয়ং দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার!
শনিবার এক কড়া বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টিএনটি স্পোর্টসের এই বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি চ্যানেলটির প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন যুক্তরাজ্যের সাধারণ ও নন-পেইড গ্রাহকদের জন্য এই ম্যাচটি দেখার উন্মুক্ত ব্যবস্থা করে দেয়।
লেবার পার্টির এই শীর্ষ নেতা নিজে কিন্তু একজন কট্টর আর্সেনাল সমর্থক। ফলে নিজের প্রিয় দলের ঐতিহাসিক ফাইনাল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়াটা তিনি মেনে নিতে পারছেন না।
স্টারমার বলেন, আমি অত্যন্ত মর্মাহত যে, ৩৪ বছর আগে এই প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম টিএনটি স্পোর্টস সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে যুক্তরাজ্যের ফুটবল সমর্থকদের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালটি ফ্রি দেখানো হবে না।

প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, এটি কেবল ফাইনালে ওঠা দুই দলের সমর্থকদের বিষয় নয়; এটি পুরো দেশের ফুটবল সংস্কৃতির অংশ। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি প্রান্তের লিভিং রুম আর পাবগুলোতে সব দলের সমর্থকেরা একসাথে বসে ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়দের এই মহালড়াই দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। এটি তাদের সেই আবেগে আঘাত।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এমন তোপের মুখেও নিজেদের অবস্থানে অনড় টিএনটি স্পোর্টস। চ্যানেলের একজন মুখপাত্র উল্টো তাঁদের এই পেইড সিস্টেমের সাফাই গেয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা ‘এইচবিও ম্যাক্স’ চ্যানেলের এক মাসের সাবস্ক্রিপশনের জন্য মাত্র ৪.৯৯ পাউন্ড চার্জ করছেন।
এই সামান্য খরচে ভক্তরা কেবল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালই নয়, উয়েফার বাকি দুটি ক্লাব টুর্নামেন্টের (ইউরোপা লিগ ও কনফারেন্স লিগ) ফাইনালও দেখতে পাবেন। মুখপাত্রের দাবি, এই অফারটি গ্রাহকদের জন্য অসাধারণ সাশ্রয়ী এবং চমৎকার মূল্যের।

উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই আর্সেনাল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় রাজকীয় উল্লাস করেন কিয়ার স্টারমার। প্রিয় দলের এমন সাফল্যে ভাসলেও, ব্রিটিশ রাজনীতির মাঠে তাঁর নিজের পারফরম্যান্স কিন্তু এখন বেশ নড়বড়ে। চলতি মাসের শুরুতে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে তাঁর দল লেবার পার্টি শোচনীয়ভাবে হেরে যাওয়ায় রাজনীতিতে তীব্র চাপের মুখে আছেন তিনি।
এমনকি তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব টিকবে কিনা, তা নিয়েই এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন স্টারমার। রাজনীতির মাঠের এই ‘ডাউন পিরিয়ডে’ প্রিয় দল আর্সেনালের ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে স্টারমারের এই ক্ষোভকে অনেকে আমজনতার পাশে দাঁড়ানোর একটি 'রাজনৈতিক চাল' হিসেবেও দেখছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত টিএনটি স্পোর্টস প্রধানমন্ত্রীর কথায় গলে ফ্রি-তে খেলা দেখায়, নাকি ব্রিটিশদের পকেট কেটেই ছাড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
