গত শনিবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজি’র উইলিয়ান পাচো এবং আর্সেনালের পিয়েরো হিনকাপিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে লড়েছিলেন। তবে ইউরোপ সেরার সেই তুমুল বৈরিতা ভুলে এবার তাঁরা একই লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ইকুয়েডরের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে যে দল ঘোষণা করেছেন, তাতে এই দুই তারকা ডিফেন্ডারকেই একসাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইকুয়েডরের রক্ষণভাগকে ইস্পাতকঠিন করতে পাচো ও হিনকাপিয়ের সাথে যোগ দিচ্ছেন এসি মিলানের ফুল-ব্যাক পারভিস এস্তুপিনান। আর এই রক্ষণভাগকে বাড়তি সুরক্ষা দিতে মাঝমাঠে ‘ঢাল’ হিসেবে থাকছেন চেলসির রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার মইসেস কাইসেডো।
বাছাইপর্বে পাওয়া ছোটখাটো নিষেধাজ্ঞার নিয়ম ফিফা গত মাসে পরিবর্তন করায় আগামী ১৪ জুন আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে ইকুয়েডরের প্রথম ম্যাচ থেকেই মাঠে নামতে পারবেন কাইসেডো, যা দলটির জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
রক্ষণভাগ যেমনই হোক, ইকুয়েডরের আক্রমণভাগের মূল দায়িত্ব থাকছে ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এনের ভ্যালেন্সিয়ার কাঁধে। দলের অধিনায়ক এবং ১০৫ ম্যাচে রেকর্ড ৪৯ গোল করা ভ্যালেন্সিয়া নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন।
বিশ্বমঞ্চে ইতিপূর্বে ৬টি গোল করা এই স্ট্রাইকার চাইবেন উত্তর আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) অনুষ্ঠিতব্য এবারের আসরে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে নিতে। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বযজ্ঞে গ্রুপ ‘ই’-তে খেলবে ইকুয়েডর। ১৪ জুন আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর পর ২০ জুন কুরাসাও এবং ২৫ জুন পরাশক্তি জার্মানির মুখোমুখি হবে তারা।

নিজেদের ইতিহাসে এটি ইকুয়েডরের পঞ্চম বিশ্বকাপ। এর আগে ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে তারা শেষ ষোলোতে পৌঁছেছিল, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য। সেবার ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চে নামার আগে আগামী রবিবার গুয়াতেমালার বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ল্যাটিন আমেরিকার এই দলটি।
ইকুয়েডরের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: হার্নান গালিন্দেজ, মইসেস রামিরেজ, গঞ্জালো ভালে।
রক্ষণভাগ: পিয়েরো হিনকাপিয়ে, উইলিয়ান পাচো, পারভিস এস্তুপিনান, ফেলিক্স টরেস, জোয়েল অর্ডনেজ, জ্যাকসন পোরোজো, অ্যাঞ্জেলো প্রেসিয়াডো।
মধ্যমাঠ: মইসেস কাইসেডো, অ্যালান ফ্রাঙ্কো, কেন্ড্রি পায়েজ, পেড্রো ভিটে, জর্ডি আলসিভার, ডেনিল কাস্তিলো, ইয়াইমার মেদিনা।
আক্রমণভাগ: এনের ভ্যালেন্সিয়া, গঞ্জালো প্লাটা, অ্যালান মিন্দো, জন ইয়েবোহা, কেভিন রদ্রিগেজ, জর্ডি কাইসেডো, নিলসন অ্যাঙ্গুলো, অ্যান্থনি ভ্যালেন্সিয়া, জেরেমি আরেভালো।
পানামাকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বকাপের হুংকার ছাড়ল ব্রাজিল