কাতারর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে টুর্নামেন্ট শুরু করা সুইজারল্যান্ড এবার স্বরূপে ফিরল। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সোফাই স্টেডিয়ামে ৭০ হাজার ২৬ জন দর্শকের গগনবিদারী চিৎকারের সামনে বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সুইসরা।
ম্যাচের ৭০ মিনিট পর্যন্ত লড়াইটা সমানে-সমানে চললেও, শেষ ১৫ মিনিটে বসনিয়ানদের রক্ষণভাগকে যেন ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলেছে সুইজারল্যান্ড। এই রাজকীয় জয়ের মাধ্যমে নিজেদের গ্রুপে চালকের আসনে বসে গেল তারা।

ম্যাচের আসল টার্নিং পয়েন্ট ছিলেন ২০ বছর বয়সী জেনেভার তরুণ তুর্কি জোহান মাঞ্জাম্বি। জার্মান ক্লাব ফ্রাইবুর্গে খেলা এই তরুণ ৭১ মিনিটে মাঠে নামেন এবং এর ঠিক ৩ মিনিট পরেই, অর্থাৎ ৭৪তম মিনিটে এক অবাস্তব, চোখ ধাঁধানো ভলিতে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
বসনিয়ার আমার মেমিচের দুর্বল হেডের ক্লিয়ারেন্স বাতাসে ভাসতেই লাফিয়ে উঠে অবিশ্বাস্য এক কানেকশনে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি তুলে নেন মাঞ্জাম্বি। আর তাতেই সোফাই স্টেডিয়ামের স্নায়ুচাপে ভোগা সুইস গ্যালারিতে আনন্দের সুনামি বয়ে যায়।

টানা ৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থাকা আত্মবিশ্বাসী বসনিয়া মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ৮৪তম মিনিটে। এক বিপজ্জনক ট্যাকল করার দায়ে বসনিয়ার তারিক মুহারোমোভিচকে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। এই সুযোগের পূর্ণ ফায়দা তুলে ঠিক তার পরের মিনিটেই (৮৪ মিনিটে) সুইজারল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন রুবেন ভার্গাস।
এখানেই শেষ নয়, ৯০ মিনিটে সেই ভার্গাসের পাস থেকেই নিজের দ্বিতীয় এবং দলের ৩ নম্বর গোলটি করে বসনিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন সেই বিস্ময় বালক মাঞ্জাম্বি।

ম্যাচের ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে (৯৪ মিনিটে) এরমিন মাহমিচ বসনিয়ার পক্ষে সান্ত্বনাসূচক একটি গোল করলেও ম্যাচের একদম শেষ কিকের পেনাল্টি থেকে গোল করে ৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা।
ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা ‘দ্য ড্রাগনস’ খ্যাত বসনিয়ার পক্ষে গ্যালারিতে হাজার হাজার সমর্থক উপস্থিত হয়ে উৎসবের আমেজ তৈরি করেছিলেন।

যদিও বল পজিশন ও আক্রমণের দিক থেকে তারা পিছিয়ে ছিল, তবুও তাদের ছোট ছোট আক্রমণগুলো গ্যালারির গর্জন বাড়িয়ে দিচ্ছিল। এই হারের পরেও ৪ পয়েন্টের সমীকরণ মাথায় রেখে বসনিয়ার নকআউট পর্বে যাওয়ার এক বৈধ সুযোগ এখনো টিকে রয়েছে। অন্যদিকে, এই তাণ্ডুবে জয়ের পর সুইজারল্যান্ড প্রমাণ করল, কেন তারা ইউরোপের অন্যতম সমীহ জাগানিয়া দল!
