বিশ্বকাপের ই-গ্রুপের সমীকরণটা এখন বেশ উত্তপ্ত। একদিকে জয়ের ধারা ধরে রাখা জার্মানি, অন্যদিকে নকআউটের টিকিট পেতে মরিয়া ইকুয়েডর। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত করে ফেলায় জার্মানি শুক্রবার রাত ২টার ম্যাচে কিছুটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পেলেও, ইকুয়েডরের জন্য এই ম্যাচটি শুধু ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
জার্মানির স্ট্রাইকার জেমি লেভেলিং বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই হুঙ্কার দিয়েছেন, ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তা ভাঙার চাবিকাঠি তাদের কাছেই আছে। স্টুটগার্টের এই তারকা বলেন, আমরা জানি ওরা কত বিপজ্জনক, কিন্তু আমাদের ডাগআউটে যারা এখনো খেলার সুযোগ পাননি, তারা মাঠে নামলে নিজেদের উজাড় করে দেবেন। আমরা গোল বের করার উপায় ঠিকই জানি।

অন্যদিকে, ইকুয়েডরের অবস্থাটা বেশ নাজুক। টানা ২০৩ মিনিট কোনো গোলের দেখা নেই তাদের। এই খরা কাটাতে এখন পুরো ভরসা ৩৬ বছর বয়সী অধিনায়ক এনার ভ্যালেন্সিয়া। সতীর্থ পিয়েরো হিনকাপি তাকে ডাকেন ‘সুপারম্যান’ নামে, কারণ কঠিন সময়ে বারবার ভ্যালেন্সিয়া তার শক্তিশালী হেড দিয়ে দলকে উদ্ধার করেছেন।
জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের হাতে এখন একঝাঁক গোলমেশিন। গত ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করে নিজেকে প্রমাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ডেনিস উন্দাভ। বিশ্বকাপের এই আসরে ইতিমধ্যে তার গোলসংখ্যা ৩টি।
তার চেয়ে বেশি গোল শুধু আরলিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং লিওনেল মেসির। তবে দুঃখের খবর হলো, নিকো শ্লোটারবেকের গোড়ালির চোট তাকে এই টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দিয়েছে। ওদিকে ম্যানুয়েল নয়্যার তার ১২৬তম ক্যাপ পরে আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক।

পরিসংখ্যান বলছে, ইকুয়েডর তাদের বাছাইপর্বের ১৮ ম্যাচে মাত্র ৫টি গোল হজম করেছিল, যা ছিল ওই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণভাগ। কিন্তু বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এসে সেই দেয়াল যেন কিছুটা নড়বড়ে। কোচ সেবাস্টিয়ান বেকাসেসে ইকুয়েডরের পঞ্চম বিশ্বকাপ কোচ হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল তাদের শক্তির উৎস, কিন্তু এবার কেন যেন গোলপোস্টের ঠিকানা খুঁজে পেতে ঘাম ঝরছে লা ত্রির।
অনেকেই মনে করছেন জার্মানি যেহেতু নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছে, তাই তারা এই ম্যাচে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে মাঠে নামতে পারে। অন্যদিকে, কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে ইকুয়েডর তিনের বেশি ‘এক্সপেক্টেড গোল’ (এক্সজি) তৈরি করেছিল, যা প্রমাণ করে তাদের আক্রমণভাগের ধার আছে। যদি আজ এনার ভ্যালেন্সিয়া জ্বলে ওঠেন এবং জার্মান রক্ষণকে কিছুটা শিথিল পাওয়া যায়, তবে ইকুয়েডরের কাছ থেকে বড় কোনো অঘটন দেখার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নকআউটের স্বপ্নে বিভোর ইকুয়েডর কি পারবে বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকতে? উত্তর মিলবে আজকের মাঠের লড়াইয়ে!
