ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী এবং তিতা শত্রুতার ম্যাচ নিয়ে রোববার সকাল ৮টায় মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া। এই ম্যাচের আবহেই জড়িয়ে আছে ৪৪ বছর আগের এক চরম বেইমানির ইতিহাস, যা ফুটবল দুনিয়ায় ‘ডিসগ্রেস অব গিজন’ বা ‘গিজনের কলঙ্ক’ নামে পরিচিত।
১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে আলজেরিয়াকে টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দিতে অস্ট্রিয়া ও পশ্চিম জার্মানি পুরো এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কোনো গোল করার চেষ্টা ছাড়াই ১-০ স্কোরে ম্যাচ শেষ করেছিল, যাতে দুই দলই পরের রাউন্ডে যেতে পারে। ফুটবলের কী নিষ্ঠুর পরিহাস! ঠিক ৪৪ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে এমন এক পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, যেখানে ড্র হলেই দু’দলই হাত ধরাধরি করে পরের রাউন্ডে চলে যেতে পারে।

অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিক অবশ্য হিসেব কষতে ভালোবাসেন। তিনি বলেন, ম্যাচ শুরুর আগেই আমরা ঠিক জানি আমাদের কী দরকার, এটা অবশ্যই একটা বাড়তি সুবিধা। নকআউট পর্বে যাওয়ার জন্য আমাদের শেষ ম্যাচে নিজেদের সেরাটা নিশ্চিত করতে হবে। তারপর সামনে কে এল, তা নিয়ে ভাবার সময় নেই।
কোচ রাংনিক মুখে যা-ই বলুন না কেন, এই ম্যাচের আড়ালে রয়েছে আরও এক ঝাঁঝালো এবং রহস্যময় গল্প। সমীকরণ বলছে, অস্ট্রিয়া যদি এই ম্যাচে জিতে বা ড্র করে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান পায়, তবে শেষ ৩২ বা নকআউট পর্বে তাদের খেলতে হবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন পরাশক্তি স্পেনের বিরুদ্ধে!
তাই ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, অস্ট্রিয়ার জন্য স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে এই ম্যাচে অল্প ব্যবধানে হেরে ‘সেরা তৃতীয়’ দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়াটাই বেশি লাভজনক হতে পারে। কারণ, তাতে নকআউটে তুলনামূলক কোনো দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়ার সুযোগ মিলবে।
অন্যদিকে, আলজেরিয়ার বস ভ্লাদিমির পেতকোভিচ এসব জটিল গাণিতিক সমীকরণের ভেতরে ঢুকতে নারাজ। জর্ডানের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে ফুটতে থাকা পেতকোভিচ বলেন, আমরা ভালো খেলছি এবং নকআউটে যাওয়ার লড়াইয়ে টিকে আছি। আমাদের ভাগ্য এখন আমাদের নিজেদের হাতেই। এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি, তবে আমরা বেশ ভালো অবস্থানে আছি।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়া ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ আমৌরাকে এই ম্যাচে পাচ্ছে না আলজেরিয়া। তবে দলের ডিফেন্ডার আইসা মান্দি এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন; ১৯৬৬ সালের পর প্রথম আফ্রিকান ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে ১০০টিরও বেশি (১০৫টির মধ্যে ১০০টি) নিখুঁত পাস দেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি।
অস্ট্রিয়া দলে লাগছে শততম ম্যাচের রঙ। মাঝমাঠের চালিকাশক্তি মার্সেল সাবিতজার সকালে মাঠে নামলেই দেশের হয়ে ১০০তম ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করবেন। এছাড়া আক্রমণভাগে ফিরতে পারেন ৩৭ বছর বয়সী কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মার্কো আরনাউতোভিচ, যিনি ৪৭ গোল নিয়ে ইতিমধ্যেই অস্ট্রিয়ার ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসে আছেন।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের প্রেডিকশন বলছে, ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হতে পারে। আলজেরিয়ার জন্য ড্র-ই যেখানে পরম পাওয়া, সেখানে অস্ট্রিয়ার জন্য একটি সম্মানজনক হারও হয়তো খুব একটা খারাপ হবে না। ৪৪ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক ক্ষোভ নাকি স্পেনের ভয়, মাঠের রণকৌশলে কার জয় হয়, সেটাই দেখার বিষয়!
