হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার পর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির ‘নির্বোধ লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে ইরানকে অভিযুক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিবিসির।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হরমুজ প্রণালীতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘এভার লাভলি’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই ঘটনার শক্তিশালী জবাব হিসেবেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। জাহাজে হামলার জেরে ওই অঞ্চলে আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পিত কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি বাহিনীর এই অযাচিত আগ্রাসন স্পষ্টতই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ইরানের এই বিপজ্জনক আচরণ আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। মার্কিন বাহিনী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা বজায় রাখবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, এই হামলার জন্য ‘চুক্তি ভঙ্গকারী মার্কিন শাসনব্যবস্থাকে’ দায়ি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, ‘এভার লাভলি’ জাহাজটি পারস্য উপসাগরীয় জলপথের একটি অননুমোদিত পথ ব্যবহার করায় সেটির গতিবিধি রোধ করা হয়েছিলো। আর এই ‘ছুতোয়’ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলে বিমান হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী ইতিমধ্যে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়ে এর প্রতিশোধ নিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গতকাল তারা (ইরান) যে হামলা চালিয়েছে, তা আমি পছন্দ করিনি। তাদের এমনটা করা উচিত হয়নি। তবে যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, সমঝোতা স্মারকটি কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে তা নিয়ে যদি ইরানের কোনো মতবিরোধ থাকে, তবে তারা ফোন করতে পারে। কিন্তু সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।
পাল্টা জবাবে ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাঝেই আবারও ইরানের ওপর হামলা করেছে। যুদ্ধবিরতির এই বেপরোয়া লঙ্ঘন, বরাবরের মতোই, তাদের পিছু হটা এবং অনুশোচনার দিকে নিয়ে যাবে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪-দফা সমঝোতা স্মারকের অধীনে শত্রুতা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছিলো। যেখানে ইরান ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। কিন্তু এই নতুন উত্তেজনার ফলে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
