হিউস্টনের মাঠে সোমবারের রাতটি ছিল গোটা বিশ্বের লাখো কোটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার নাম। নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিল নিশ্চিত করেছে তাদের পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিলের এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ছিল এক দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান; ২০০২ সালের পর এই প্রথম ব্রাজিল কোনো নকআউট ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নিল। দলের এই জয়ের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কোচ কার্লো আনচেলত্তি তার রণকৌশল ও খেলোয়াড়দের ধৈর্যের প্রশংসা করেছেন।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি স্বীকার করেন, প্রথমার্ধে জাপানের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। কিন্তু বিরতির সময়েই তিনি বুঝতে পারেন, এই ম্যাচ জিততে হলে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরার নির্দেশ দেন এবং ডি-বক্সের ভেতর ক্রমাগত ক্রস পাঠানোর কৌশল অবলম্বন করতে বলেন। আনচেলত্তির ভাষায়, আমরা দ্বিতীয়ার্ধে স্পেস খুঁজে পেয়েছিলাম এবং ক্রমাগত ক্রস পাঠিয়েছি। এটি ছিল আমাদের কৌশলের এক বিবর্তন।

ম্যাচ চলাকালীন অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল, কেন নেইমারকে মাঠে নামানো হলো না? আনচেলত্তি জানালেন, তিনি নেইমারকে মাঠে নামানোর পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, আমি নেইমারকে বলে রেখেছিলাম, ম্যাচটি যদি ড্রয়ের দিকে গড়াত, তবেই তাকে মাঠে নামাতাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মার্তেনেলির গোল আসায় আর তাকে পাঠানোর প্রয়োজন পড়েনি। তিনি গ্যাব্রিয়েল মার্তেনেলির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, যিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে দলের জন্য ইনজুরি টাইমে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের গোলটি উপহার দিয়েছেন।
ব্রাজিল এখন কোয়ার্টার ফাইনালের লক্ষ্যে তাকিয়ে রয়েছে আইভরি কোস্ট ও নরওয়ের মধ্যকার লড়াইয়ের বিজয়ী দলের দিকে। আগামী রোববার নিউ জার্সিতে সেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। তবে বর্তমান সাফল্য নিয়ে এখনই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন আনচেলত্তি। তিনি সোজা জানিয়ে দিলেন, আমরা ভালো কাজ করছি ঠিকই, কিন্তু আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা। আমরা প্রতিটি দলকে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু আমাদের চোখ এখন পরবর্তী লক্ষ্যের দিকে।

জাপানের শারীরিক সক্ষমতা ও সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের প্রশংসা করতেও কার্পণ্য করেননি ইতালিয়ান এই কোচ। নকআউটের এই লড়াইয়ে ব্রাজিল যে মানসিক দৃঢ়তা দেখাল, তা যেন তাদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, নিউ জার্সির পরবর্তী লড়াইয়ে আনচেলত্তির ব্রাজিলীয় বাহিনী নিজেদের ট্যাকটিক্যাল ছককে কতটুকু নিখুঁত করতে পারে!
