কাতার ও কানাডার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিড নিয়েও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় পয়েন্ট হারানোর ক্ষত এখনো দগদগে। বিশ্বকাপের বি-গ্রুপের সেই হতাশা কাটিয়ে এবার জয়ের সরণিতে ফিরতে মরিয়া ইউরোপের দুই দল সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা।
লস অ্যাঞ্জেলেসের বিশ্বখ্যাত সোফাই স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। গ্রুপ ফেভারিট সুইসদের জন্য এই ম্যাচটি যেমন নিজেদের জাত চেনানোর, তেমনি বসনিয়ার জন্য ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো নকআউটের টিকিট কাটার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার মোক্ষম সুযোগ।

সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া ও টরন্টোর তীব্র গরমের ধকল সয়ে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতে হয়েছিল দুই দলকেই। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক ও মনোরম পরিবেশে এবার খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স উজাড় করে দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রথম ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে অতিরিক্ত ‘ডিফেন্সিভ’ বা রক্ষণাত্মক খেলার খেসারত দিতে হয়েছিল বলে আক্ষেপ করেছিলেন বসনিয়ার কোচ সের্গেই বারবারেজ। তবে এই ম্যাচে আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে নিজেদের রণকৌশল আরও উন্মুক্ত ও আগ্রাসী করতে পারেন তিনি।

অন্যদিকে, কাতারের বিপক্ষে ম্যাচে ২৬টি শট নিয়েও মাত্র ১টি গোল (তাও পেনাল্টি থেকে) করতে পারা সুইসদের মূল লক্ষ্য থাকবে ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা। কোচ মুরাত ইয়াকিনের অধীনে থাকা সুইজারল্যান্ড শেষ ৬ ম্যাচের মাত্র একটিতে জয়ের মুখ দেখেছে। কানাডার বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচের আগে নিজেদের ওপর থেকে চাপ কমাতে এই ম্যাচটি জিতে নকআউটের পথ সহজ করতে চাইবে সুইসরা।
প্রথম ম্যাচের পর সুইজারল্যান্ড শিবিরে কোনো চোটের দুশ্চিন্তা নেই, যা কোচ ইয়াকিনকে মানসিকভাবে বেশ স্বস্তিতে রাখবে। বিশেষ করে দলের অন্যতম সেরা ভরসা ব্রিল এমবোলো আছেন দুর্দান্ত ফর্মে; সুইজারল্যান্ডের হয়ে নিজের শেষ ৬ ম্যাচের ৪টিতেই জালের দেখা পেয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।

বিপরীতে, বসনিয়া শিবিরে ইনজুরির থাবা বেশ গভীর। প্রথম ম্যাচ মিস করা অভিজ্ঞ তারকা এডিন জেকো এবং হারিস তাবাকোভিচকে নিয়ে এখনো সংশয় কাটেনি। কানাডা ম্যাচে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়া সেয়াদ কোলাসিনাচের খেলা নিয়েও রয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে দলটির রক্ষণভাগ; ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন নিদাল চেলিক, যাঁর বদলি হিসেবে স্টুর্ম গ্রাজের আরিয়ান মালিচকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দুই দলের অতীত পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায়, ২০১৬ সালে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল তারা। সেই ম্যাচে সুইজারল্যান্ডকে তাদেরই মাটিতে ২-০ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল বসনিয়া। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। মজার ব্যাপার হলো, বসনিয়ার খেলা শেষ ৪টি অফিশিয়াল বা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের প্রতিটিই ১-১ গোলে ড্র হয়েছে!

বিশ্বকাপের মঞ্চে সুইজারল্যান্ডের অতীত অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য বসনিয়ার চেয়ে ঢের বেশি, শেষ তিনটি বিশ্বকাপেই তারা শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, সোফাই স্টেডিয়ামের চমৎকার আবহাওয়া এবং অভিজ্ঞতার বিচারে মুরাত ইয়াকিনের দলই কালকের ম্যাচে চালকের আসনে থাকবে। শেষ মুহূর্তের আক্রমণ আর কাউন্টার অ্যাটাকের রোমাঞ্চ শেষে সুইজারল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে বসনিয়াকে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নেবে, এমনটাই আভাস দিচ্ছে ফুটবল পণ্ডিতদের নিখুঁত প্রেডিকশন!
