হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক সারপ্রাইজ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নতুন সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও চার সহ-সভাপতি।
মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় এক সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতিতেই বাফুফে কর্তারা ছেঁকে ধরেন ফিফা প্রধানকে! বিমানবন্দর চত্বরে আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী এই জাঁকজমকপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দেশের ফুটবলের সম্ভাবনা ও নানা চাওয়া-পাওয়া সবিস্তারে তুলে ধরে বাফুফে।

সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বেশ চাঙ্গা মেজাজে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানান, স্বল্প সময়ের এই বৈঠকটি শুধু সৌজন্য সাক্ষাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বাংলাদেশের ফুটবলের মূল অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আটকে থাকা ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের অর্থছাড় এবং একদম তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলকে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইনফান্তিনোর সাথে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল ফিফার ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের থমকে থাকা ফান্ডের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। তাবিথ আউয়াল জানান, বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের নেয়া ফুটবলের দু’টি বৈপ্লবিক উদ্যোগের কথা শুনে ফিফা সভাপতি রীতিমতো চোখ ছানাবড়া করেছেন এবং ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন!
প্রথমটি হলো- দেশের ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোতে সোলার পাওয়ার বা পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, আর দ্বিতীয়টি হলো- আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা।

কেবল দেশের মাঠেই নয়, প্রবাসে থাকা বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিদের ফুটবলের রঙে রাঙাতে এক বড় মাস্টারপ্ল্যান কষেছে বাফুফে। যুক্তরাজ্য, ইতালি, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের গ্যালারিতে টানতে সেসব দেশে বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জোর তাগিদ দেওয়া হয়, যা শুনে ফিফা প্রধান বেশ পজিটিভ ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বৈঠকের পর্ব চুকিয়ে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে ভুটানের রাজধানী থিম্পুর উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান ইনফান্তিনো। সেখানে দু’দিন অবস্থান করার পর জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠেয় এএফসি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পথে আবারও ঢাকার মাটিতে এক সংক্ষিপ্ত ট্রানজিট নেবেন ফিফা সভাপতি। তবে সেই যাত্রায় হয়তো আর বাফুফে ভবনের মুখোমুখি না হয়ে সরাসরি কানেক্টিং ফ্লাইটে চেপে বসবেন ফুটবলের এই শীর্ষ অভিভাবক!
