স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে চরম উত্তাল হয়ে উঠেছে ইউরোপের দেশ ফ্রান্স। সাধারণ মানুষের অহিংস প্রতিবাদ এখন রূপ নিয়েছে নজিরবিহীন সহিংসতা, দাঙ্গা ও ব্যাপক লুটপাটে। রাজধানী প্যারিসজুড়ে গত কয়েক দিন ধরে চলা এই অরাজকতার কালো ছায়া এবার গিয়ে পড়েছে ফুটবল অঙ্গনেও।
সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিখ্যাত ‘প্যালেস দে লা রিপাবলিক’-এর কাছের একটি শোরুম ভাঙচুর করে দুজন দুর্বৃত্ত একটি বার্সেলোনা জার্সি ও একটি অধিনায়কের আর্মব্যান্ড চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।
অত্যন্ত মূল্যবান ও ঐতিহাসিক এই স্মারক দুটি ছিল ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির এবং সেখানে তাঁর নিজের স্বাক্ষরও ছিল। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মুখোশ পরা এক ব্যক্তি ক্যামেরার সামনে মেসির সেই জার্সি ও আর্মব্যান্ড গর্বের সাথে উঁচিয়ে দেখাচ্ছে। এই দুটি স্মারকের বাজারমূল্যের পাশাপাশি ফুটবল অনুরাগী ও সংগ্রাহকদের কাছে আবেগীয় মূল্যও অপরিসীম।
প্যারিসে যখন মেসির সাবেক দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব পিএসজি ও বার্সেলোনা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ঘটল এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আর্জেন্টাইন তারকা মেসি তাঁর বর্ণাঢ্য পেশাদার ক্যারিয়ারে এই দুই ক্লাবের হয়েই অসামান্য অবদান রেখেছিলেন।
এদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ গত শনিবার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভয়াবহ অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডবে এ পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০টি দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত ও লুটপাটের শিকার হয়েছে।
সহিংসতা ছড়ানো, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানো, সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ পর্যন্ত ২,৩৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ৯৯৭ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সাতজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া ফরাসি মুলুকে আইন ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
