প্রাচীনকাল থেকেই 'সূর্য' নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। সূর্যের শক্তি ও তার ব্যবহার বুঝতে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছে পৃথিবীর একাধিক দেশ। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সূর্য সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে নিজেদের প্রথম মহাকাশভিত্তিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করলো চীন। যা সূর্যের রহস্য উন্মোচনের বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে দিলো।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিআরই জানায়, স্থানীয় সময় রোববার (৯ অক্টোবর) সকাল ৭টা ৪৩ মিনিটে চীনের ‘চিউ ছুয়ান’ উপগ্রহ উতক্ষেপণকেন্দ্র থেকে ‘লংমার্চ-২’ পরিবাহক-রকেটের সাহায্যে স্যাটেলাইটটিকে মহাকাশে পাঠানো হয়।
অ্যাডভান্সড স্পেস-বেসড সোলার অবজারভেটরি (এএসও-এস) স্যাটেলাইটটির (টেলিস্কোপ) ডাকনাম ‘খুয়াফু-১’। এটি উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় পর মহাকাশের পূর্বনির্ধারিত কক্ষপথে প্রবেশ করে।
খুয়াফু-১ পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ৭২০ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থান করবে। এর মোট ওজন ৮৫৯ কিলোগ্রাম। সূর্য নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এটিই চীনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ যন্ত্র। যা আগামী চার বছর সূর্যের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবে। এছাড়াও আবহাওয়ার পূর্বাভাসের জন্য ব্যবহার হবে।
'খুয়াফু' নামটি এসেছে চীনা পৌরাণিক কাহিনীর একটি দৈত্য (দেবতা বিশেষ) থেকে। যিনি অদম্যভাবে সূর্যকে তাড়া করেছিলেন।
চীনা বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্যাটেলাইটটি বছরের ৯৬ শতাংশের বেশি সময় কাজ করবে। এ সময়ে এটি সূর্যের আলো, চলন, শক্তি বিকিরণের তথ্য সংগ্রহ করবে।
চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস (সিএএস) এর অধীন পার্পল মাউন্টেন অবজারভেটরি (পিওএম) স্যাটেলাইটের প্রধান বিজ্ঞানী গ্যান ওয়েইকুন বলেছেন, এটি বছরের বেশিরভাগ সময় অর্থাৎ প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা সূর্যের ওপর নজর রাখতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ বিপর্যয় কি বারবার হবে?
স্যাটেলাইটটি দিনে পাঁচশ' গিগাবাইট ডেটা (তথ্য) জমা করতে পারবে এবং তা পৃথিবীতে পাঠাতেও পারবে। পাওয়া যাবে হাজার হাজার উচ্চ-মানের ছবি।
এর আগে গবেষণাগারে ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরি করেন চীনের বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক পরীক্ষণে কৃত্রিম সে সূর্য ৭ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ উৎপন্ন করে, যা আসল সূর্যের পাঁচ গুণের কাছাকাছি। তার চেয়েও বড় কথা, এই তাপ প্রায় ১৮ মিনিট পর্যন্ত ধরে রাখতে সফল হয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।
সংশ্লিষ্টদের ধারনা, আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী দেখা দিবে জ্বালানি সংকট। এর সমাধান খুঁজতেই এসব গবেষণা চালাচ্ছে চীন।
একাত্তর/আরবিএস
