‘ফাইভ-জি না এলে গ্রাহকের ভোগান্তি যাবে না’

বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪, ০৪:০০ পিএম

কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেট নানা বিড়ম্বনায় পড়ে দেশের অনেক গ্রাহক বলছেন মোবাইল ফোন সেবা আসলে এগোয়নি বরং পিছিয়েছে। তবে তা মানতে নারাজ সাবেক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তার মতে, সারাদেশ মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতায় আসাটাই বড় সাফল্য। মন্ত্রী হিসেবেও সামগ্রিকভাবে তিনি নিজেকে অনেক সফল মনে করেন। তবে দুঃখ, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হওয়ায় সংসদে কথা বলতে পারেননি। 

ডাক বিভাগ প্রায় মরেই গেছে, এটিও মানতে নারাজ তিনি। তার মতে, সেটি প্রযুক্তির উত্তরণের অভাবে এক স্বাভাবিক বিলিনতা। এবার তার জায়গায় দায়িত্ব নেয়া মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে খুবই যোগ্য ও দক্ষ মনে করেন তিনি। একাত্তর টেলিভিশনের জুলিয়া আলম-এর সঙ্গে এক দীর্ঘ আলাপে এমন অনেক কিছুই খোলা মনে বলেছেন সাবেক এ মন্ত্রী।     

জুলিয়া: মন্ত্রিত্বের ভারমুক্ত হওয়ার পর আপনি এখন কী করছেন যা আগে করতে পারেননি?

মোস্তাফা জব্বার: সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজগুলো সপ্তাহে একদিন দেখতে পারতাম, এখন প্রতিদিনই দেখি। আমার ব্যবসার চরিত্র হচ্ছে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং এর সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক অনেক। একটি বিজয় বাংলা সফটওয়্যার। আমাকে বস্তুত বিজয় বাংলা সফটওয়্যারের প্রণেতা হিসেবেই জনগণ চেনে এবং বাংলা লেখার ক্ষেত্রে এটি কিংবদন্তি সফটওয়্যার। এটা আমার একটা  কন্টিনিউয়াস কাজ। আমি ১৯৮৭ সাল থেকে এটি করে আসছি। আরেকটা কাজ হচ্ছে, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষায় ব্যবহৃত বইগুলোর সফটওয়্যার ভার্সন আমরা তৈরি করেছি। আমি এই কাজগুলো দেখাশুনা করতে এখন পুরো সময় ব্যয় করতে পারি।

জুলিয়া: প্রথমবার মন্ত্রী হয়ে অনুভূতি কেমন ছিল? 

মোস্তাফা জব্বার: সেটা একটা বিস্ময়কর ব্যাপার ছিলো। আমাকে তৎকালীন মন্ত্রীপরিষদ সচিব ফোন করে বললেন স্যার আপনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি নির্দেশনা আছে। প্রধানমন্ত্রী আমার ক্লাসমেট ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং রাজনৈতিক কারণে একটা সম্পর্ক ছিলো। তিনি আমাকে নির্দেশ দিতেই পারেন। পরে সচিব বললেন, সন্ধ্যার সময় বঙ্গভবনে গিয়ে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। এক বন্ধুকে বললাম আজ পহেলা এপ্রিল না যে আমার সাথে কেউ মশকরা করবে। আমাকে হঠাৎ করে মন্ত্রী বানাচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর পিএস-১ আমাকে ফোন করলেন। টিভি স্ক্রলে তখন দেখানো শুরু হয়ে গেছে আমাকে মন্ত্রিত্ব দেয়া হয়েছে। এটা আমার জন্য একটা চমক ছিলো। আমার জীবনে এই ঘটনা অপ্রত্যাশিত।

জুলিয়া: এবারের মন্ত্রীসভা নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

মোস্তাফা জব্বার: আমি একটা জিনিস বুঝি, সেটা হচ্ছে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেছে। তিনি দুই পর্বে সরকার পরিচালনা করে আসছেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত। সরকারপ্রধানের সঙ্গে কে কাজ করবে, কাকে দিয়ে তিনি কোন কাজ করাবেনে, সেই সিদ্ধান্ত তিনি একা গ্রহণ করেন। এটাই ঠিক কারণ তিনি জানেন কাকে দিয়ে কোন মন্ত্রণালয় চালানো যাবে। উনি আমাকে ২০১৮-১৯ সালে মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তিনি হয়তো এখন ভিন্ন চিন্তা করেছেন। আমি তার চিন্তা ভাবনার সঙ্গে পরম শ্রদ্ধাশীল।

জুলিয়া: নতুন মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ড কেমন দেখছেন? নতুনদের জন্য কোনো পরামর্শ আছে কী? 

মোস্তাফা জব্বার: প্রত্যেকের আলাদা আলাদা মূল্যায়ন আমি করতে চাই না। কারণ প্রতিটি ব্যক্তি আলাদা মানুষ, দক্ষতা এবং যোগ্যতাও আলাদা। তারা যে কাজগুলো করেন দক্ষতার সঙ্গে করতে পারেন অদক্ষতার সঙ্গেও করতে পারেন। এই মন্ত্রীসভা এখনো ছোট। সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এখনো দেওয়া হয় নাই। 

অনেকগুলো মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে রেখেছেন। উনি এতো ব্যস্ত যে, এইসব মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজ দেখাশুনা করা তার জন্য চ্যালেঞ্জিং। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী যেটা ভালো মনে করছেন সেটাই করছেন, যেটা ভালো মনে করবেন সেটাই করবেন। তিনি মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণ করতে পারেন। হতে পারে তিনি নতুনদের নিয়ে আসবেন অথবা পুরনোদেরও আবার নিয়ে আসতে পারেন। এটা অবশ্যই উনার বিষয়।

জুলিয়া: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর প্রতি কোনো পরামর্শ আছে কী? 

মোস্তাফা জব্বার: জুনায়েদ আহমেদ পলক ২০১৫ সাল থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ পরিচালনা করে আসছেন। সে সময় ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিলো। আমি এইটুকুই বলবো, প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা করেছিলেন সেটি ২০০৯ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং ২০২১ সালের মধ্যেই আমরা বাস্তবায়ন করেছি। আমাদের জনগণকে ডিজিটাল পদ্ধতির সঙ্গে অভ্যস্ত করা ও সরকারের সেবা হাতে পৌঁছে দেওয়া ভীষণ চ্যালেঞ্জিং ছিলো। সেই কাজে প্রতিমন্ত্রী দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এখন তার পরিধি আরও বেড়েছে। এখন টেলিযোগাযোগ ও ডাক দুটো মন্ত্রণালয়ই নিতে হবে। ডাক একটি অতিপ্রাচীন প্রতিষ্ঠান, কিন্তু বিপন্ন অবস্থায় আছে। এর কারণ হচ্ছে ডাকে মানুষের  নির্ভরশীলতা কমে গেছে। ডাক ব্যবস্থা শক্তিশালী করাটা অনেক চ্যালেঞ্জিং কাজ। গত ছয় বছরে আমারও চ্যালেঞ্জ ছিলো ডাক বিভাগকে যুগোপযোগী করা।

জুলিয়াঃ ডাক বিভাগকে মৃতপ্রায় মনে হচ্ছে, করণীয় কী?

মোস্তাফা জব্বার: প্রযুক্তি এমন একটি জিনিস যেটি পরিবর্তনশীল হয় এবং কখনো কখনো বিলুপ্ত হয়ে যায়। ডাকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- একটি চিঠির লেনদেন, আরেকটি হচ্ছে টাকার লেনদেন। দুটিই যখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে ডাকের মূল কাজটা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন ডাককে যদি গড়ে তুলতে হয় আমাদের নতুন চিন্তাভাবনা করতে হবে। চিঠি, টাকা লেনদেনের যুগ চলে গেলেও পার্সেলের যুগ শেষ হয়নি। অতএব ডাককে এই পার্সেল পরিবহনের কাজে নিযুক্ত করা যায়। সেটার জন্য আমরা ই-ক্যাবের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক করেছি এবং তাদের সেবা ডাক বিভাগ দিয়ে আসছে। যেমন করোনার সময় কৃষকের সবজি বহন করে নিয়ে আসার কাজও করেছে  ডাক বিভাগ। ডাক ঘর উদ্যোক্তাদের দিতে হবে উদ্যোক্তারা যেন জনগণকে সেবা দিতে পারে তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এজন্য ডিজিটাল যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার প্রশ্ন আছে পজ মেশিন ব্যবহার করা, ডাকের পার্সেল মনিটর করা। ডাকের চ্যালেঞ্জটা আসলে প্রযুক্তি স্থাপনের চাইতেও বেশি। কারণ ডাকে প্রায় ৪৪ হাজার লোক কাজ করে তারা কিন্তু ডিজিটালি দক্ষ না।

জুলিয়া: জার্মানিসহ অনেক দেশ ডাক ব্যবসাকে বড় করলো, আমরা কী করছি? 

মোস্তাফা জব্বার:  আমরাতো জার্মানি না। জার্মানির সব থেকে বড় সুবিধা হচ্ছে তারা প্রযুক্তিকে আগে বুঝতে পেরেছে। শুধু জার্মানি না অন্য উন্নত দেশগুলোও যারা শিল্পায়ন করেছে তারা এই রূপান্তর দীর্ঘদিন আগে থেকেই শুরু করেছে।

জুলিয়াঃ টিএনটি ল্যান্ডফোনও মৃতপ্রায়, কেন?

মোস্তাফা জব্বার: টিএনটি ফোন এখনও যে অবস্থার মধ্যে আছে সেক্ষেত্রে আরও কিছু দক্ষতা অর্জন করলে সেটি মারা যাওয়ার কোনো কারণ নাই।

জুলিয়া: মোবাইল টেলিকম খাতে আপনার সাফল্য এবং অনিচ্ছাকৃত ব্যর্থতা কী? 

মোস্তাফা জব্বার: সাফল্যের ইতিহাসটা এত বড় যে তা বলার জন্য ব্যাপক সময় লাগবে। যে বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো সেটি হচ্ছে যে, সমগ্র জনগোষ্ঠীকে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। আমাদের এখানে বর্তমানে চারটি মোবাইল অপারেটর আছে, তার মধ্যে তিনটা বিদেশি কোম্পানি। একটি দেশি কোম্পানি টেলিটক। তিনটি বিদেশি কোম্পানি চমৎকার নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এর ফলে দেশের শতকরা ৯৮.৪ ভাগ জনগণ নেটওয়ার্কের আওতায় আছে। আর টেলিটকের দুর্বলতার কারণ আছে।  আমি একটা উদাহরণ দেই তাহলে বুঝবেন। গ্রামীণফোন এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে তাদের নেটওয়ার্কে গড়ে তোলার জন্য। আর আমি যখন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিই তখন টেলিটকের বিনিয়োগ ছিল মাত্র তিন হাজার কোটি টাকা। মানে আমি ৩ শতাংশ বিনিয়োগ দিয়ে এক লক্ষ কোটি টাকার প্রতিষ্ঠানের সাথে টিকে থাকবো সেটা কঠিন ব্যাপার। টেলিকম বিভাগের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ফাইভ-জি ঠিকমতো সম্প্রসারণ করা যায় কিনা। এবং এটা যদি হয় তাহলে বাংলাদেশের জনগণ সত্যি সত্যিই একটা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে।

জুলিয়া: কল ড্রপ, ধীরগতির ইন্টারনেটসহ নানা বিড়ম্বনায় অনেকেই মনে করেন বর্তমান অবস্থা আরও খারাপ, আপনি কী একমত?

মোস্তাফা জব্বার: না, আগের থেকে খারাপ হয়েছে এই কথার সঙ্গে আমি মোটেও একমত নই। এখন গ্রাহক বেডরুমে বসে যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। এই চাহিদাটা কিন্তু গত পাঁচ ছয় বছরে আরও বেড়েছে। আমাদের অপারেটররাও চেষ্টা করেছে কিন্তু কাজটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। চাহিদাটা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে ফোর-জিতে সীমাবদ্ধ নেই। তার চাহিদা চলে গেছে ফাইভ-জি পর্যন্ত। ফাইভ-জি চাহিদা হলে আমাকে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক দিতে হবে। আর আপনি যেটা বলছেন কল ড্রপ বা অন্যান্য কিছু সেগুলোর  অনেক কারণ আছে। যেমন ধরেন যদি এই নগরীতে আপনি নেটওয়ার্কের চিন্তা করেন। হাইরাইজ বিল্ডিং এর জায়গার যখন নেটওয়ার্ক চালু রাখতে যাবেন তখন বিপদ হলো উঁচু বিল্ডিং সিগনাল আটকে রাখে। আবার বহু জায়গাতে আছে ইভেন আমাদের মসজিদে জ্যামার বসানো হয় যাতে নেটওয়ার্ক কাজ না করে। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তার পরে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি জনগণের অভিযোগগুলোকে ফেলে দিচ্ছি না। কিন্তু জনগণের অভিযোগের পাশাপাশি বাস্তবতাটাকেও আমার বিবেচনা করতে হবে। কতটুকু বাস্তব অবস্থা বিরাজ করে এটাকে আরও উন্নত করার।

ফাইভ-জি’তে না যাওয়া পর্যন্ত আপনি এ ভোগান্তিতে থাকবেন। সারাদেশে শক্তিশালী ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক গড়ে না উঠলে এই সমস্যা থাকবেই। 

জুলিয়া: ফোর-জি নিয়েও গ্রাহক অসন্তুষ্ট কেন?  

মোস্তাফা জব্বার: সারাদেশে ফোর-জি’র সম্প্রসারণ করেছেন কিন্তু সব জায়গাতে একই ধরনের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এটা কঠিনতম চ্যালেঞ্জ। কঠিন চ্যালেঞ্জটা আমাদের অপারেটররা ঠিকভাবেই মোকাবেলা করতে পেরেছে তা আমি বলবো না। আমি এইটুকু বলবো এই মোবাইল নেটওয়ার্কের যে সমস্যা এটি পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতেও আছে।

জুলিয়া: মোবাইল ফোন অপারেটরদের নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ?

মোস্তাফা জব্বার: এইটুকু বলবো যে, বিটিআরসির মোবাইল তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম নীতিমালার দিক থেকে এবং সব দিক থেকেই। বিটিআরসি যে জায়গাতে কিছু করতে পারে না সেটা হচ্ছে মোবাইল অপারেটররা কোন জায়গায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করবে এবং ওরা প্রায় পরীক্ষা করে এবং যে দুর্বলতা পায় সে এটা অপারেটরদের জানায়। অপারেটররা যত দ্রুত এই দুর্বলতা দূর করা দরকার তত দ্রুত গতিতে করে না। এটা স্বাভাবিকভাবে যেহেতু ইনভেস্টমেন্টের প্রশ্ন আছে খরচের বিষয় আছে সেহেতু অপারেটররা এই অজুহাত দিতে পারে আমারতো মূলধন থাকতে হবে কোম্পানির বিনিয়োগ থাকতে হবে আমি যা আয় করি ব্যয়ে সামঞ্জস্যতা থাকতে হবে। এই কারণেই আমরা এই দুর্বলতা দেখতে পাচ্ছি। 

জুলিয়া: বিজয়ের পর এখন পর্যন্ত কী কী কাজ হয়েছে এবং হয়নি, যা খুব জরুরি?

মোস্তাফা জব্বার: বাংলা একটি বিজ্ঞানসম্মত ভাষা বলে আমি বিজয় উদ্ভাবন করতে পেরেছি। জাতীয় মান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আমার এই কি-বোর্ড শুধু বাংলাদেশে নয় পশ্চিমবঙ্গেও ব্যবহৃত হয়। এর ফলে যেটা হয়েছে বাংলা লিখতে গিয়ে যুক্তাক্ষর লিখতে গিয়ে যে সংকটগুলো ছিল সেটি অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে। আমরা যখন প্রথমে লেখা শুরু করেছিলাম কি কোড নামে আমাদের বাংলা লেখা হতো। এখনো বই প্রকাশিত হয়। কিন্তু পৃথিবী পরবর্তীকালে ইউনিকোডের দিকে চলে যায়। ইউনিকোড হচ্ছে একটি কোডের ভেতরে পৃথিবীর সকল ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা।  আপনি যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে লেখেন তখন এরা ইউনিকোড ব্যবহার করে। এই ইউনিকোডের থেকে আরম্ভ করে লেখার ক্ষেত্রে কিন্তু বাংলার কোন সীমাবদ্ধতা নাই। যে জায়গাটায় সীমাবদ্ধতা আমরা দেখতে পাচ্ছি যেমন ধরেন আমি স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ চাই। আমাদের গুগলের এরকম অনুবাদক আছে। কিন্তু এটা পরীক্ষা করে আমি দেখেছি যে তাতে অসংখ্য ভুল থাকে। এটি একটা বড় দুর্বলতা। আমাদের বাংলা অপটিক্যাল ক্যারেক্টার নাই, স্পিচ-টু-টেক্সট সেইসব সফটওয়্যার এখনো ডেভেলপ করিনি। কারণ প্রত্যেকটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করার পিছনে যে বিনিয়োগ দরকার সেটি ব্যক্তি খাত থেকে করা কঠিন। অনেকেই আমাকে দায়ী করে বাংলা সফটওয়্যার আমি বিক্রি করি কেন। জবাবটা হচ্ছে এখন আমি একজন প্রোগ্রামারকে দিয়ে কাজ করাবো তাকে বেতন দিতে হবে আনুষঙ্গিক আরো খরচ দিতে হবে। এটি আমি একজন ব্যক্তি হিসেবে কেমন করে করবো? এই কাজগুলো মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলো করে যেমন গুগল, ফেসবুক আর করে সরকার। আমি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারি, ২০১৭ সালে আমরা আইসিটি ডিভিশন থেকে একটা প্রকল্প নিয়েছিলাম বাংলা ভাষা আধুনিকায়নের জন্য ১৬টা টুলস ডেভেলপ করার কথা। আমি জানতে পেরেছি স্পিচ-টু-টেক্সট এই সফটওয়্যারগুলো তৈরি করা হয়েছে। তবে এগুলো এখনও আমরা পরীক্ষা করে দেখি নাই কতটুকু কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। ১৬টা টুলস যদি আমাদের আইসিটি ডিভিশন থেকে ডেভেলপ করে দেওয়া হয় বাংলার যে সীমাবদ্ধতা আমরা ডিজিটাল জগতে দেখতে পাচ্ছি সেগুলো দূর হয়ে যাবে। এটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিন্তু আমি এটা প্রত্যাশা করি না যে ব্যক্তি খাত থেকে হবে কারণ এটি ১৫২ কোটি টাকার প্রকল্প। বড় কোম্পানি ছাড়া কিভাবে এত বড় বিনিয়োগ করবে। আবার এই যে সফটওয়্যার বানাবে আমাদের দেশে মানুষের সফটওয়্যার কেনার অভ্যাস নাই তারা পাইরেটেড সফটওয়্যার ইউজ করতে অভ্যস্ত। তাহলে টাকাটা উঠে আসবে কেমন করে। আমি মনে করি দেরি হলেও সরকার কাজটা দ্রুত সম্পন্ন করবে।

জুলিয়া: রাজনীতিবিদ মন্ত্রী তুলনায় টেকনোক্র্যাটের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো কী ছিল? 

মোস্তাফা জব্বার: সুবিধার কথা যদি বলেন তাহলে একটা সুবিধা হচ্ছে রাজনীতিবিদ মন্ত্রী মানে সংসদ সদস্য। তাদের স্থানীয় সমস্যা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে অনেক সময় দিতে হয়েছে। আমি যেহেতু সংসদ সদস্য ছিলাম না সেখানে আমার মুক্তি ছিলো। আমার এলাকার যে সংসদ সদস্য ছিলেন উনি এগুলো দেখাশোনা করেছেন। অসুবিধার কথা বললে একটাই সেটা হচ্ছে, সংসদে আমার কথা বলার অধিকার ছিল না। আমার এমন অনেক বিষয় ছিলো যেগুলো সংসদের মাধ্যমে আমি পুরো জাতিকে জানাতে পারতাম। কথা বলার সুযোগ থাকলে সেটা বিরাট সুবিধা হিসেবে কাজ করে।

জুলিয়া: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ একাত্তর টেলিভিশনকে সময় দেওয়ার জন্য।

মোস্তাফা জব্বার: আপনাকেও ধন্যবাদ। 

 

একাত্তর/এসি
যতই দিন যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ততই আরো বেশি জটিল ও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে যা অনেক বেশি সংকটময় আর ভয়াবহ।
প্রযুক্তি দুনিয়ার আজ সর্বাধিক আলোচিত বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। পদার্থবিদ্যায় এবারের নোবেল পুরস্কারও গেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা করা দুই শীর্ষ বিজ্ঞানীর হাতে। মানুষের মস্তিষ্কের মধ্যে...
ইলেক্ট্রনিক গাড়ি নির্মাণে শুরু থেকেই ‘মার্কেট লিডার’ টেসলা। ইলন মাস্কের এই প্রতিষ্ঠানটি এতোদিন তৈরি করতো ‘প্রাইভেট কার’ বা ব্যক্তিগত গাড়ি।
পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক স্থানগুলোর মধ্যে একটি সাহারা মরুভূমি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে মরুর বুকে সবুজের চিহ্ন দেখতে পেয়েছে নাসা। সংস্থাটির দাবি, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সাধারণত অনুর্বর সাহারা মরুভূমি জুড়ে...
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফ্যাসিলিটিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মনোনীত হয়েছেন দেলোয়ার হোসেন শাহীন। 
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বিদেশে পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু।
জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম, সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দি মোছা. রিম্পাকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। 
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর