বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। চীনের গুয়াংডং প্রদেশের শিনজেন শহরে হুয়াওয়ারের হেডকোয়ার্টারটি যেন শহরের ভেতরে আরেক শহর।
প্রায় দুই স্কয়ার কিলোমিটার জুড়ে গড়ে উঠেছে এই হেডকোয়ার্টার। তবে দেখে বোঝার উপায় নেই জটিল সব সমীকরণের গবেষণা আর প্রযুক্তি পণ্যের উৎপাদন হয় এখানে।
দেখলে মনে হবে এটি যেনো সাজানো গোছানো একটি পার্ক। চীনের স্মার্ট ফোন বাজারের ২৪ শতাংশ আর বিশ্বের ৪ শতাংশই হুয়াওয়ের দখলে। বিশ্বের ষষ্ঠ শীর্ষ স্মার্ট ফোন উৎপাদনকারী হুয়াওয়ে।
তবে স্মার্ট গ্যাজেট বিক্রি তাদের ব্যবসার মাত্র ৩০ শতাংশ। বাকিটা ম্যানজেমেন্ট, ডাটা সেন্টার মেকানিজম, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল এনার্জি আর ইন্টেলিজেন্ট অটোমোবাইল সংক্রান্ত প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসা।
হুয়াওয়ের তৈরি সার্ভারের মাধ্যমে বিশ্বের দশটিরও বেশি স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বের টপ র্যাংকিং ব্যাংকগুলোর সার্ভার তৈরিতেও আছে হুয়াইয়ের সরব উপস্থিতি।

এছাড়া বিশ্বের ২১০টি বিমানবন্দর এয়ারলাইন্স ও এয়ার ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্টে ব্যবহৃত হচ্ছে হুয়াইয়ের প্রযুক্তি। প্রতিষ্ঠানটির সদর দফতর গুয়াংডং প্রদেশের শেনঝেনে অবস্থিত।
২০২০ সালের জুলাই মাসে হুয়াওয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী পাঠানো ফোনের সংখ্যায় স্যামসাং এবং অ্যাপলকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৮ সালে হুয়াওয়ে বার্ষিক ১২৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে।
এটি ২০১২ সালে বিশ্বের বৃহত্তম টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক হিসাবে এরিকসনকে ছাড়িয়ে যায় এবং ২০১৮ সালে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থান থাকা স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সকেও পেছনে ফেলে।

৩৬ বছরের পুরোনো এই কোম্পানিতে দুই লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ১৭০টি দেশে ব্যবসা করছে হুয়াওয়ে। চীনা সংস্থা হুয়াওয়ের যাত্রা ১৯৮৭ সালে শুরু হয়েছিল।
পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সাবেক কর্মকর্তা রেন জেংফেই হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা। বড় বড় সব কোম্পানি তাদের লাভের ১০ শতাংশ অর্থ গবেষণা ও উদ্ভাবনে ব্যয় করলেও, হুয়াওয়ের ব্যয় ২০ শতাংশ।
হুয়াওয়ে কর্মকর্তাদের মতে গ্রিন এনার্জি আর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এই দুই খাতই নির্ধারণ করতে যাচ্ছে ভবিষ্যতের বিশ্ববাণিজ্য।
