যুক্তরাষ্ট্রের নিঃসন্তান দম্পতি ড্যাফনা এবং অ্যালেকজান্ডার কার্ডিনাল অনেকদিন থেকে চেষ্টা করেও সন্তানধারণ করতে পারছিলেন না। শেষমেশ তারা শরণাপন্ন হন ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন চিকিৎসার। অনেক চেষ্টার পর ২০১৯ সালে আরেক নারীর গর্ভে তাদের এক ফুটফুটে কন্যাশিশুর জন্ম হয়।
তবে শিশুটির জন্মের কিছুদিন পর তারা খেয়াল করলেন, তার চেহারার সাথে বাবা-মা কারোরই চেহারার সামান্যতম মিল নেই। এ থেকে তাদের সন্দেহ হলো, আসলেই কি শিশুটি তাদের সন্তান? এ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তারা শিশুটির ডিএনএ টেস্ট করানোর সিদ্ধান্ত নেন।
টেস্ট করানোর পর জানা গেলো, শিশুটি তাদের নয়। অনুসন্ধান করে আরও জানা যায়, যে নারী তাদের সন্তানকে নিজের গর্ভে ধারণ করেছিলেন, তিনি শিশুটির জন্মের পর তাকে আর বাবা-মার কাছে দেননি। পরিবর্তে তাদেরকে দেন অন্য এক শিশু। আর কার্ডিনাল দম্পতির শিশুটিকে দিয়ে দেন অন্য এক দম্পতির কাছে।
উল্লেখ্য, ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন চিকিৎসার মাধ্যমে মা ও বাবার কাছ থেকে যথাক্রমে শুক্রাণু ও ডিম্বানু নিয়ে তা কৃত্রিমভাবে পরীক্ষাগারে নিষিক্ত করা হয়। এরপর নিষিক্ত ভ্রূণটিকে অন্য একজন ইচ্ছুক নারীর গর্ভে বড় করা হয়। ওই নারী এরপর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ১০ মাস পর শিশুটির জন্ম দেন।
আরও পড়ুন: ভারতে শিশু হাসপাতালে আগুনে চার নবজাতকের মৃত্যু
কার্ডিনাল দম্পতি বলেন, তারা যেই শিশুটিকে পৃথিবীতে আনতে এতো কষ্ট করলেন, তাকে দিয়ে দেয়া হলো অন্য কারও কাছে। আর তাদেরকে দেয়া হলো অন্য একজনের সন্তান! নিজের সন্তানকে কোলে না নিতে পারার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।
এই ঘটনা জানার পর সংশ্লিষ্ট ফার্টিলিটি সেন্টার এবং ভ্রূণতত্ত্ব ল্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা। অভিযোগ, তারা দায়িত্বে অবহেলা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করেছেন।
পরে অবশ্য হাসপাতালের সহযোগিতায় তারা সেই জুটিকে খুঁজে পান, যাদের কাছে তাদের সন্তান দিয়ে দেয়া হয়েছিল। দুই শিশুর বয়স যখন চার মাস তখন দুই দম্পতির দেখা হয়। এরপর তারা আইনগতভাবে শিশু দুটিকে বিনিময় করে নিজেদের সন্তানকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন।
এই ঘটনার পর মানসিক উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং পোস্ট-ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারের জন্য সাইকিয়াট্রিস্টের কাছেও গিয়েছিলেন অ্যালেকজান্ডার। তবে ড্যাফনা কার্ডিনাল বলেন, এই প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে কঠিন ছিল তাদের সাত বছর বয়সী বড় সন্তানের জন্য। হুট করে ছোট বোনকে দিয়ে নতুন একটি বোন নিয়ে আসার বিষয়টি বোঝা তার জন্য যথেষ্ট কঠিন ছিল।
একাত্তর/এসজে
