২০২০ সালে কট্টরপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠী ভাঙচুর চালিয়েছিল পাকিস্তানের শতাব্দীপ্রাচীন এক মন্দিরে। পরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের করক জেলার তেরি গ্রামে মহারাজ পরমহংসজির সেই মন্দিরটি সংস্কার করে ইমরান খান সরকার। এবার সেই মন্দিরে প্রার্থনা করলেন ভারত, দুবাই, আমেরিকা ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আসা দুই শতাধিক হিন্দু পুণ্যার্থী।
রোববার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মন্দিরটি শুরু এ বিশেষ প্রার্থনা।
সোমবার (৩ জানুয়ারি) পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রতিবেশী ভারতের ১৫৯ জনসহ মোট ২১৫ জন সনাতন ধর্মালম্বী তেরি গ্রামে শ্রী পরমহংস মহারাজের সমাধিতে তাদের ধর্মীয় আচার পালন করেছেন।
প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল পাকিস্তানি হিন্দু কাউন্সিল এবং পাকিস্তান আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স। লাহোরের কাছে ওয়াঘা সীমান্ত পেরিয়ে পু্ণ্যার্থীরা রোববার পাকিস্তানে ঢোকেন। ভারত থেকেই এসেছিলেন কমপক্ষে ১৬৯ জন পুণ্যার্থী। ১৫ জন এসেছিলেন দুবাই থেকে। আমেরিকা ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকেও বেশ কয়েক জন পুণ্যার্থী প্রার্থনায় অংশ নেন।
এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, প্রার্থনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে তেরি গ্রামে ছিল সাজো সাজো রব। 'হুজরা' বা মাথা খোলা বড় বড় ঘরগুলোকে পু্ণ্যার্থীদের আশ্রয় শিবিরে পরিণত করা হয়েছিল। পুণ্যার্থীদের সঙ্গে আসা শিশুরা স্থানীয় ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠে।
পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ওয়াঘা সীমান্ত থেকেই উপস্থিত ছিলেন পাক রেঞ্জার্স বাহিনী, গোয়েন্দা ও বিমানবন্দরের সশস্ত্র নিরাপত্তা আধিকারিকেরা। সব মিলিয়ে মোট ৬০০ জন নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছিল হিন্দু পুণ্যার্থীদের সুরক্ষার জন্য।
ব্যবস্থাপনায় পাক সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে 'হিন্দু কমিউনিটি লিগাল অ্যাফেয়ার্স ইন চার্জ' সদস্য রোহিত কুমার বলেন, এই প্রার্থনা ও বিশেষ পূজা ভারতকে এক সদর্থক বার্তা দিল। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি প্রচারে পাক সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
আরও পড়ুন: ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকবে দুই জাপানি শিশু
১৯১৯ সালে তেরি গ্রামে প্রয়াত হন মহারাজ পরমহংসজি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম-ফজ়ল নামে এক কট্টরপন্থী সংগঠনের সদস্যেরা মন্দিরটিতে ভাঙচুর চালিয়ে তছনছ করে দেয়। সেই মন্দির পুনরুদ্ধার করে তিন কোটিরও বেশি টাকা খরচ করে সম্প্রতি তার সংস্কারের কাজ শেষ করে পাক সরকার।
একাত্তর/আরবিএস
