হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের আরও একটি সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি সাতশ' কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করেছে পিয়ংইয়াং।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ বলছে, স্থানীয় সময় বুধবার (৬ জানুয়ারি) নতুন বছরের শুরুতে এমন বড় কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা এটিই প্রথম।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো দেশটি। শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ দ্রুত গতিতে ছুটতে পারা এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শত্রুর নজরদারি এড়াতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি সক্ষম। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষাটি চালানো হয় গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নববর্ষে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরালো করার কাজ অব্যাহত থাকবে, কারণ এই অঞ্চলের সামরিক পরিবেশ ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ এই পরীক্ষা সর্বপ্রথম বুধবার ভোরে শনাক্ত করে জাপানের কোস্ট গার্ড। পরে সিউলের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ এই উৎক্ষেপণের কথা নিশ্চিত করে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিশি নোবুও বলেছেন, সরকার বিশ্বাস করে বুধবার উত্তর কোরিয়ার নিক্ষিপ্ত উড়ন্ত বস্তুটি ছিল নতুন এক ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দেশটি যেটি আগে কখনও নিক্ষেপ করেনি।
কিশি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, এ পর্যন্ত চালানো বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করে বলা যায়, উত্তর কোরিয়া এমন একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যেটা সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়ে গেছে, যে উচ্চতাকে তিনি আগের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চাইতে কম উচ্চতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
আরও পড়ুন: মাহবুব তালুকদার এজেন্ডা বাস্তবায়নে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কথা বলেন: সিইসি
কিশির মতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ হচ্ছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন এবং অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে যতটা সম্ভব সবকিছু করে যাওয়া অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় জাপান বজায় রাখবে।
একাত্তর/আরবিএস
