মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলতি বছরের শুরু থেকেই একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে কিম সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের পর এবার সবচেয়ে শক্তিশালী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো উত্তর কেরিয়া।
রোববার (৩০ জানুয়ারি) উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও এ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার (১,২৪৩ মাইল) উচ্চতায় পৌঁছায়। এ সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার (৪৯৭ মাইল) দূরত্ব অতিক্রম করে কোরিয়ান উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের আঘাত হানে।
লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রতিরক্ষা ও সামরিক গবেষণা সহযোগী জোসেফ ডেম্পসি জানান, যদি ক্ষেপণাস্ত্রটি সঠিকভাবে নিক্ষেপ করা হয়, তবে এর পাল্লা তিন হাজার ৫০০ কিলোমিটার থেকে পাঁচ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হবে। এটি একটি মধ্যবর্তী রেঞ্জ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০১৭ সালের পর এটিই উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
দেশটি তার রেকর্ড-ব্রেকিং ফায়ার পাওয়ার বাড়িয়ে তুলতে এ মাসেই সপ্তম বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো। সিউল সতর্ক করে বলেছে, পরবর্তী টেস্ট হতে পারে পারমাণবিক ও দূরপাল্লার পরীক্ষা। এর আগে পিয়ং ইয়ং কখনোই একমাসে এতোগুলো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকায় উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা দ্বিগুণ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নেতা কিম জং উন দেশটির সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন জোরদারের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া রোববার বলেছে, উত্তর কোরিয়া ২০১৭ সালের প্যাটার্ন অনুসরণ করছে, এ সময় কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল, পিয়ং ইয়ং শিগগিরই পুনরায় পারমাণবিক এবং আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু করতে পারে।
আরও পড়ুন: জনসনের টিকা পাবেন ভাসমানরা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে আসার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুনজায়ে-ইন এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন। সিউলে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের পরে তিনি এ কথা বলেন।
উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, চলতি মাসের ৫ এবং ১১ জানুয়ারি তারা সফলভাবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। তারপরে ১৪ জানুয়ারী একটি ট্রেন থেকে স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রেরও পরীক্ষা চালায়৷
একাত্তর/আরবিএস
