অস্ট্রেলিয়ায় এবার বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে কোয়ালা। দেশটিতে সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ায় এই তালিকায় স্থান করে নিয়েছে প্রাণীটি।
ভূমি সাফ, দাবানল, খরা, রোগ এবং অন্যান্য পরিবেশগত হুমকির কারণে বিপন্নের মুখে পড়েছে এক সময়ের সমৃদ্ধশালী এই প্রাণী। খবর বিবিসির।
নিউ সাউথ ওয়েলস এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরির (এসিটি) জন্য এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেডারেল সরকার।
একইসঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে আবাসস্থল হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে এই প্রজাতিকে রক্ষায় বিশেষ পরিকল্পনারও আবেদন জানানো হয়েছে।
এর আগে, ২০১২ সালে ওই রাজ্যগুলো এবং সীমানায় প্রজাতিটিকে 'ভঙ্গুর' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তারপরও অনবরত এর সংখ্যা কমে যাওয়ায় সরকারের উদাসীনতাকে দায়ি করা হচ্ছে।
শুক্রবার দেশটির পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী সুসান লে জানান, কোয়ালা রক্ষায় এই তালিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, এটি রক্ষায় কর্মকর্তারা বিশেষ পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে এবং ভূমি উন্নয়নের আবেদনপত্রে এই প্রজাতির ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ইউক্রেন ছাড়া উচিৎ: বাইডেন
গত বছর, নিউ সাউথ ওয়েলসের এক গবেষণায় দেখা যায়, দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যাবে কোয়ালা।
২০১৯-২০ সালের দাবানলে প্রায় পাঁচ হাজার কোয়ালার মৃত্যু হয় এবং শুধু নিউ সাউথ ওয়েলসেই এদের ২৪ শতাংশ আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যায়।
বিশ্ব বণ্যপ্রাণী সংস্থা-অস্ট্রেলিয়ার সংরক্ষণ বিজ্ঞানী স্টুয়ার্ট ব্লাঞ্চ বলেন, মাত্র এক দশকের মধ্যে কোয়ালা তালিকার বাইরে থেকে ভঙ্গুর এবং শেষে বিপন্ন প্রায়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও কঠোর আইন এবং ভূমি মালিকরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা না করলে এই প্রজাতিকে বিপন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
বিজ্ঞানীরা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দাবানল এবং খরা বাড়তেই থাকবে। আর এর ফলে কোয়ালাদের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ইউক্যালিপটাস পাতার মানও হ্রাস পাবে।
সংরক্ষণ গোষ্ঠীগুলোর তথ্যমতে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া এবং ভিক্টোরিয়াতে কোয়ালার দেখা মিললেও জাতীয়ভাবেই এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
একাত্তর/টিএ
