পুতিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছেন ইউক্রেনিয়রা। রুশ সেনাদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে গেরিলা বাহিনীতে নাম লিখিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।
হাতে বানানো অস্ত্র নিয়েই প্রতিরোধ গড়তে চান তারা। ১৮ থেকে ৬০ বছরের নারী-পুরুষ সবাই নিজেদের কাজ ও পরিবার ছেড়ে বেরিয়ে পড়ছেন মাতৃভূমি রক্ষায়।
কে চিকিৎসক, কে ট্যাক্সিচালক আর কে শিক্ষক- সব ব্যবধান ঘুচিয়ে দিয়েছে এই যুদ্ধ যুদ্ধ রব; ঘরের বধূও চুপ করে বসে নেই। দেশ মাতৃকাকে রক্ষায় ইউক্রেনের সবাই ব্যবধান ভুলে নাম লিখিয়েছে গেরিলা বাহিনীতে। ইউক্রেন সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ যোদ্ধাদের কাছে নিচ্ছে দীক্ষা।
খাতা কলমে বৃহস্পতিবার থেকে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়েছে। তবে আসল যুদ্ধটা বেঁধে গেছে বহু আগেই, ইউক্রেনকে জব্দ করতে আগে থেকেই চারপাশে সেনা জড়ো করে মস্কো।
পরিস্থিতি পূর্বাভাস আগেই ইউক্রেন সরকারকে দিয়ে রেখেছিলো গোয়েন্দারা। সেই সতর্কবার্তা মেনে পুতিন-সেনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতিও শুরু করেছিলো ইউক্রেনবাসী।
গেরিলাযুদ্ধের কৌশল হাতেনাতে শিখতে ইউক্রেনের প্রায় ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক যোগ দিয়েছে দেশের সেনাবাহিনীতে।
দেশের নানা প্রান্তেই চলেছে প্রশিক্ষণ। আসল অস্ত্র ছিলো না তাদের হাতে, তাতে কি, দৃঢ় প্রত্যয় মজবুত করেছে সাহসের ভীত।
নিরুপায় এমন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে সেনাবাহিনী জানিয়েছে আহ্বান, রুশ আগ্রাসনের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিরোধের কিছু কৌশল তারা বাতলে দিয়েছে।
পুতিনবাহিনীর যাবতীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে, মলোটভ ককটেল বা হাতে তৈরি বোমা দিয়েই করতে হবে সর্বাত্মক প্রতিরোধ।
আহ্বানে সাড়াও মিলেছে, রাজধানী কিয়েভ থেকে গোটা ইউক্রেনে আম জনতার হাতে হাতে ঘুরছে এই নিজস্ব প্রযুক্তির বোমা। বড় শক্তির বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয়দের লড়াইয়ের মহা রসদ।
আরও পড়ুন: আগামী ২৪ ঘণ্টা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’, বলছে ইউক্রেন
যুদ্ধটা যদিও কেবল নেতাদের, দেশটা তো দিন শেষে সবার; প্রিয় মাতৃভূমিতে হানাদার পা পড়লে; সরাসরি লড়াইয়ে নানা ছাড়া উপায় নেই।
তাই দেয়ালে ঠেকে যাওয়া পিঠ, আর হাতে বানানো অস্ত্রেই চলছে ইউক্রেনীয়দের স্বদেশ বাঁচানোর লড়াই। বড় কামানের গোলা, শক্তিশালী মিসাইলের চেয়েও শক্ত যে লড়াই।
একাত্তর/আরএ
