ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে একে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের সাথে তুলনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া এক ভাষণে ইউক্রেনের জনগণের ওপর রাশিয়ার নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, পুতিনের উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনের বাইরেও অন্যান্য দেশে তার ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়া।
রাশিয়াকে নিজেদের কর্মকাণ্ডের দায়ভার নেয়ার দাবি জানিয়ে জেলেনস্কি তাদেরকে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের মতো আন্তর্জাতিক বিচারের সম্মুখীন করানোর জোর দাবি জানান।
ইউক্রেনের বুচা শহরে সম্প্রতি যা হয়েছে তাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গত ৪১ দিন ধরে রাশিয়া ইউক্রেনে যা করছে বুচা তার একটি উদাহরণ মাত্র।
জাতিসংঘে রাশিয়ার ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোকে অবমূল্যায়ন করে। এসময় নিরাপত্তা পরিষদ থেকে রাশিয়াকে বের করে দেয়ার আহবান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: টালমাটাল শ্রীলঙ্কা, সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল শাসক জোট
তিনি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে না পারলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ভেঙে দেয়া উচিৎ, কেননা এতে প্রমাণিত হবে যে তাদের আলোচনা ছাড়া আর কিছুই করার ক্ষমতা নেই।
এরপর তিনি ইউক্রেনিয়দের ওপর রাশিয়ার নির্যাতনের একটি এক মিনিটের ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করেন, যেখানে নিহত ইউক্রেনিয়দের ক্ষতবিক্ষত মরদেহের ছবি দেখানো হয়।
তবে যুদ্ধাপরাধের সব অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাশিয়া।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেয়ার ক্ষমতাবিশিষ্ট পাঁচটি সদস্য দেশের একটি রাশিয়া। এই ক্ষমতা সবচেয়ে বেশিবার ব্যবহারকারী দেশও এটি।
এদিকে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ মূল্যায়ন করে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে এর সদস্যপদ স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা পরিষদে এ দাবি তোলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত লিন্ডা টমাস গ্রিনফিল্ড।
একাত্তর/এসজে
