ইউক্রেন সংকটের জের ধরে ইউরোপের দেশ পোল্যান্ড এবং বুলগেরিয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধের হুমকি আগেই দিয়েছিল মস্কো। শর্ত অনুযায়ী রুবলে মূল্য পরিশোধ করতে না পারায় এবার বুলগেরিয়ার কোম্পানি বুলগারগাজ ও পোল্যান্ডের কোম্পানি পিজিএনআইজিকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা টাস এক প্রতিবেদনে জানায়, বুধবার (২৭ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গ্যাজপ্রম।
গ্যাজপ্রম জানায়, মস্কো বর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে মূল্য পরিশোধ না করা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার বিষয়টি বুলগারগাজ ও পিজিএনআইজিকে জানানো হয়েছে।
গ্যাজপ্রম আরও জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে যে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে তার মূল্য ২৬ এপ্রিল কার্য দিবসের মধ্যে বুঝে পায়নি গ্যাজপ্রম এক্সপোর্ট। চলতি বছরের ৩১ মার্চ রুশ প্রেসিডেন্টের নতুন ডিক্রি অনুযায়ী এই মূল্য রুবলে পরিশোধের কথা ছিল, কিন্তু তারা সেটা করতে ব্যর্থ হয় বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এটি রাশিয়ার একটি "ব্ল্যাকমেইল প্রচেষ্টা"।
ডয়েছে ভেলে জানিয়েছে, পোল্যান্ড এবং বুলগেরিয়া উভয় দেশই গ্যাস সরাবরাহ বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন একে 'অগ্রহণযোগ্য এবং অযৌক্তিক' বলে বর্ণনা দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ভোক্তাদের ওপর যেন গ্যাজপ্রমের এই সিদ্ধান্তের নুন্যতম প্রভাব পড়ে তা নিশ্চিত করবে ইইউ।
রাশিয়ার শর্ত মেনে গ্যাসের দাম রুবলে পরিশোধ করলে তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হিসেবে ধরে নেয়া হবে বলেও সতর্ক করে দেন তিনি।
আরও পড়ুন: করাচির আত্মঘাতী শারি বালুচ ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক
গ্যাজপ্রমের এই ঘোষণার পর ইউরোপে আবার বেড়েছে গ্যাসের মূল্য। তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইউরোপে গ্যাসের দাম ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে আগামীতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে দেশ দু'টি, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি জায়ান্ট গ্যাজপম -এর সাথে পোল্যান্ডের গ্যাস সরবরাহ চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে প্রতি বছর ১০.২ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস আমদানি করে দেশটি। পোল্যান্ডকে জাতীয় খরচের প্রায় ৫০ শতাংশ গ্যাস দেয় রাশিয়া।
একাত্তর/আরবিএস
