সাংবাদিকদের চাওয়া অনুযায়ীই ‘গণমাধ্যম কর্মী আইন’
সংশোধন হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, রেডিও, টেলিভিশন ও অনলাইনের জন্য এই আইন চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। তাই তাদের মত
নিয়েই এই আইন সংশোধন হবে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আবদুল করিম সাহিত্য-বিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) তৃতীয় সম্প্রচার সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকর্মী আইনের পরিবর্তন-পরিবর্ধনে সাংবাদিকদের সাথে সরকার একমত এবং সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনের লিখিত প্রস্তাবনার অপেক্ষায় রয়েছে। সুতরাং এ নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই।
তিনি আরও বলেন, আমি দেখেছি সেখানে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে। সেগুলো আসলে যখন বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে ঘুরেছে, তখন সেখানে কিছু কিছু ঢুকেছে। সেগুলো সমীচিন হয়নি বলে আমি ব্যক্তিগতভাবেও মনে করি।
সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, প্রেস কাউন্সিল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ যারা আইন প্রণয়নে পূর্বে কাজ করেছে, তাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। সে আলোচনায় ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো চিহ্নিত করে প্রস্তাবনাগুলো দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও আমরা সেই প্রস্তাবনা পাইনি। আমরা যদি প্রস্তাবনাগুলো পাই, কমিটির মাধ্যমে সেগুলো পরিবর্তন পরিমার্জন করা হবে।

তিনি বলেন, এই আইনের দাবি কিন্তু সাংবাদিকরা করেছে। মালিকপক্ষ কিন্তু এই আইন চাচ্ছে না। মালিকপক্ষের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিবৃতিও দিয়েছে। এখন যে সব আইন দেশে বলবৎ আছে, পুরোটা না পারলেও কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারছে। সংবাদপত্রে যারা কাজ করেন তাদের সুরক্ষা দিতে পারছে।
ইলেক্ট্রনিক বা অনলাইন মিডিয়ার কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য কোনো আইন নাই উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, এ আইনের ত্রুটি, বিচ্যুতি, পরিবর্তন ও পরিমার্জন করা হবে, সেটা নিয়ে আমরা একমত। আপনারা প্রস্তাবনা দিলে সেগুলো ইনকর্পোরেট করা হবে, এটা নিয়ে বেশি কথা বললে জল ঘোলা হবে। জল ঘোলা করার তো কোনো দরকার নেই।
একই অনুষ্ঠানে প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, যতগুলো সাংবাদিক সংগঠন আছে, সবার সঙ্গে আলোচনা করে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি, সংশোধিত আকারে এটা আমরা আবার তৈরি করেছি, দু-চার দিনের মধ্যেই আমরা জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিতে এটা পাঠাব।

উল্লেখ্য, দেশের সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের চাকরির সুরক্ষা,সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি ও অধিকার নিয়ে আইন থাকলেও টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন সাংবাদিকদের জন্য কোনো আইন নেই।
তাদের জন্য ২০১৮ সালে একটি সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে গত ১ এপ্রিল সংসদে ‘গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলি) বিল-২০২২’ উপস্থাপন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে আছে। তবে এ আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে আপত্তি রয়েছে।
