স্কুলশিক্ষক থেকে ভারতের প্রেসিডেন্ট

দ্রৌপদী মুর্মুর অবিশ্বাস্য যাত্রা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২২, ০৫:৫৪ পিএম

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন দ্রৌপদী মুর্মু। একেবারে নিচুতলা থেকে ভারতের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পৌঁছানো এই আদিবাসী নেত্রীকে ভাল করে চেনেনই না অনেকে। জানেন না তার অসাধারণ যাত্রার গল্প। 

জন্ম ও ব্যক্তিগত জীবন

ভারতের স্বাধীনতার পর জন্ম নেয়া প্রথম রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন দ্রৌপদী মুর্মু। ১৯৫৮ সালে ওডিশার ময়ূরভঞ্জে এক সাঁওতালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা বিরঞ্চি নারায়ণ টুডু ছিলেন গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান। মুর্মুর দাদাও একই দায়িত্ব পালন করেছেন।  

নিজ জেলা থেকে স্কুলশিক্ষা গ্রহণের পর তিনি ভুবনেশ্বরের রামাদেবী মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। কর্মজীবন শুরু করেন ওডিশা রাজ্য সরকারের সেচ বিভাগে জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে। এরপর শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেন শ্রী অরবিন্দ ইন্টেগ্রাল এডুকেশন সেন্টার স্কুলে। 

তবে, ব্যক্তিগত জীবনটা একেবারেই মসৃণ ছিল না দ্রৌপদী মুর্মুর। একসময় পরপর তিন সন্তান ও স্বামীর মৃত্যুতে তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন। প্রথমে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছিল তাঁর বড় ছেলে লক্ষ্মণ মুর্মুর। তিন বছর পর মৃত্যু হয় ছোট ছেলে সিপুন মুর্মুর।

এর এক বছর পর বিদায় নিয়েছিলেন তাঁর স্বামী শ্যাম চরণ মুর্মু। ছোট মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল মাত্র তিন বছর বয়সে। সেসময় অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি ধ্যান করা শুরু করেছিলেন।

image


রাজনৈতিক জীবন

রাজনীতিতে আসার পর দ্রৌপদী মুর্মু ধাপে ধাপে কাউন্সিলর, এমএলএ এবং মন্ত্রী হন। ২৫ বছর আগে প্রথমে ওড়িশার রায়রাংপুর নগর পঞ্চায়েত থেকে কাউন্সিলর নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

এর তিন বছর পর ২০০০ সালে রায়রাংপুর থেকেই প্রথম বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে বিজেপি-বিজেডি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। 

এরপর ২০১৫ সালে ঝাড়খণ্ডের নবম গভর্নর হন। ঝাড়খণ্ডের গভর্নরের পুরো মেয়াদ শেষ করা প্রথম ব্যক্তি তিনি। 

২০১৬ সালে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার নিয়ে দুটি শতবর্ষী আইন সংস্কার করার উদ্যোগ নেন বিজেপিশাসিত ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস। এ সংস্কারের ফলে আদিবাসীদের জমি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার সহজ হয়ে যেতো। 

তবে এর বিরুদ্ধে রাজ্যের আদিবাসীরা বিক্ষোভ করলে ২০১৭ সালে বিলটি ফিরিয়ে দেন মুর্মু। এই আইন সংস্কার কীভাবে আদিবাসীদের উপকার করবে, সরকারের কাছে তাও জানতে চান তিনি। 

নিজের রাজনৈতিক দলের বিতর্কিত আইনে সমর্থন না দেয়ার কারণে ব্যাপকভাবে নন্দিত হন দ্রৌপদী মুর্মু। 

image


জীবনাচরণ

দ্রৌপদী মুর্মুর প্রতিদিনের জীবন একেবারে নিয়মে বাঁধা। এতটুকু নড়চড় হয় না। যত ব্যস্ততাই থাকুক, ভোরবেলা হাঁটা, ধ্যান করা এবং যোগব্যায়াম করা বাদ দেন না তিনি। 

আরও পড়ুন: তীব্র তাপদাহে পর্তুগাল ও স্পেনে ১৭০০ মানুষের মৃত্যু

প্রতিদিন ভোর সাড়ে তিনটায় ঘুম থেকে ওঠেন। তারপর বের হন হাঁটতে। বাড়ি ফিরে যোগব্যায়াম করেন। সময়নিষ্ঠ বলে তাঁর খ্যাতি আছে। শোনা যায়, কোথাও কখনই দেরিতে পৌঁছান না তিনি।

দ্রৌপদী মুর্মু সবসময়ই তাঁর সঙ্গে দুটি বই রাখেন। একটি ইংরেজি অনুবাদের বই, অন্যটি ভগবান শিবের স্তবের পুস্তিকা। কথাবার্তা বলতে যাতে অসুবিধা না হয়, সেই কারণেই সর্বত্র তিনি ইংরেজি অনুবাদের বইটি বহন করেন। আর প্রতিদিন ধ্যান করার সময় পুস্তিকা থেকে শিব স্তব করে থাকেন তিনি।


একাত্তর/এসজে

বিয়ের সানাই বাজছিল ঠিকঠাক, কাজিও কবুল পড়িয়ে দিয়েছিলেন অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। কিন্তু আসল টুইস্টটা জমা ছিল দুপুরের খাবারের টেবিলের জন্য! পাতে খাসির মাংসের বদলে কেন মুরগির মাংস পরিবেশন করা...
ভারতের ছাত্র-যুবদের কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি এবার এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন রূপ নিল দিল্লির বুকে। সপ্তাহজুড়ে খবরের শিরোনামে থাকার পর, আজ শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে...
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখলেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের আসল নজর এখন তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ সদস্যের বিধায়ক দলের অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র ফাটলের...
‘সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত! চারদিকে শুধু ঘুষ আর অনিয়ম, আর সেই কারণেই আমি আজ আমার পরিবারের প্রায় সবাইকে হারালাম’; কান্না চেপে, তীব্র ক্ষোভে কাঁপতে কাঁপতে কথাগুলো বলছিলেন বিষ্ণু কান্ত গর্গ। গত বুধবার...
বিএনপি উন্নয়নের কথা বলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং সংস্কারের কথা শুনলেই দলটির ‘গায়ে আগুন লেগে যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। 
ভারতের জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল আন্দোলনের মধ্যে অনশনরত বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে হাসপাতালে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।...
দেশের টেক্সটাইল বা বস্ত্র খাতের বিদ্যমান নানা সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়টা আইনগত ব্যাপার। আমরা প্রস্তাব পাঠাবো স্থানীয় সরকার বিভাগকে। স্থানীয় সরকার বিভাগ যদি আমাদের প্রস্তাব উপযুক্ত মনে করেন তাহলে তারা সেভাবে ব্যবস্থা নিবেন।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর