গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য কিছুতেই থামছে না। জ্বালানি তেলে বাড়তি দামের সঙ্গে বাসের ভাড়া সমন্বয়ের পর দুই দিন পার হলেও সমানে যাত্রীদের পকেট কাটছে গণপরিবহন।
নতুন ভাড়ার তালিকা না টানানোয় প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারি যাত্রীদের ভোগান্তি যেন শেষ হবার নয়। ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায় করছে বাসের কর্মীরা।
এনিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাস কর্মীদের প্রতিনিয়তই বিতণ্ডায় লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও বিষয়টি হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যাবারও কিছু কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমন নৈরাজ্য ঠেকাতে বিআরটিএ-এর ভ্রাম্যমান আদালত মাঠে নামলেও সেটিকে যথেষ্ট মনে করছেন না যাত্রীরা। তাদের দাবি, কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
তেলের দাম বাড়ার পর গণপরিবহনের নতুন ভাড়া ঠিক হলেও বাসগুলোতে টানানো হয়নি কোন তালিকা। অথচ বিআরটিএর স্পষ্ট নির্দেশনা ছিলো নতুন ভাড়ার তালিকা রাখতে হবে বাসে। তাই কোন গন্তব্যের ভাড়া কতোটা বাড়লো সেটি যাত্রীদের কাছে স্পষ্ট নয়। বরং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইচ্ছে মতো আদায় হচ্ছে ভাড়া।
যাত্রীরা যেনো জিম্মি পরিবহন শ্রমিকদের কাছে। তাদের অভিযোগ, নানা কৌশলে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে পরিবহন শ্রমিকরা। অনেক সময় এনিয়ে উত্তপ্ত কথা কাটাকাটিও হচ্ছে।
সোমবারও রাজধানীতে বাসের সংখ্যা ছিলো অনেকটা কম। এতে ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। তবে যে বাসগুলো চলছে সেগুলোর বিরুদ্ধেও আছে বিস্তর অভিযোগ।
মালিকপক্ষ বলছে দু’একদিনের মধ্যেই নতুন ভাড়ার তালিকা বাসগুলোতে টানানো হবে। তাদের দাবি, এখন তারা আগের ভাড়াই আদায় করছে। যদিও বাস্তবে এ দাবির সত্যতা মেলেনি।
গণপরিবনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে এবং পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বিআরটিএ-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও রুট পারমিট ছাড়া বাস চলাচল করায় নগরীর বেশ কয়েকটি পরিবহন কোম্পানিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে বিআরটিএ-এর ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। সামনে সময়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হবার কথাও বলছে বিআরটিএ।
একাত্তর/এআর
